বিমানের ঢাকা-সিলেট ফ্লাইট না থাকায় যাত্রী দুর্ভোগ চরমে

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৭
এবার শীতকালে সিলেট-ঢাকা রুটে বাংলাদেশ বিমানের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট না থাকায় সিলেট থেকে বিদেশগামী শত শত যাত্রী পড়েছেন মহা বিপাকে। বিশেষ করে সিলেট-লন্ডন ও মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের দুর্ভোগ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। এ কারণে অনেকের ভিসা সমস্যাও দেখা দিয়েছে। শিশু বৃদ্ধ ও মহিলাদের দুর্ভোগ সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এখন নৈমিত্তিক চিত্র। বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে কোথায় বিমানে করে লন্ডনের পথে যাওয়ার কথা সেখানে সারা দিন গড়িয়ে যাওয়ার পর বেলা শেষে জানানো হয় ‘ফ্লাইট বাতিল’। তখন তাদেরকে সড়ক অথবা রেল পথে যাত্রা করতে হয়। তাতেও দুর্ভোগের শেষ নেই। ঢাকায় পৌঁছে নির্ধারিত ফ্লাইটটি ধরা নির্ভর করে পুরোপুরি ভাগ্যের ওপর। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে সংকট শুরু হয়েছে এবার হজ্ব ফ্লাইট শুরুর সময় থেকে। তখন অবশ্য সেই সংকট অনেকে মেনেও নিয়েছিলেন। কিন্তু বিমানের বর্তমান ফ্লাইট সংকটজনিত পরিস্থিতি নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি ইচ্ছাকৃত না অন্য কিছু, তা গভীরভাবে তলিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা। ‘বিমানের ফ্লাইট বিপর্যয় এখন নৈমিত্তিক ঘটনা। এ কারণে সিলেটের প্রবাসীরা দেশে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন, এই মন্তব্য করে এয়ারলাইন্স ক্লাবের সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ বলেন, দু’দিন আগে ঢাকায় নিয়ে বসিয়ে রাখা হচ্ছে যাত্রীদের। অথবা সময় মত ফ্লাইট দেয়া হচ্ছে না। ফলে বিমান থেকে অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এদিকে অন্যান্য এয়ার লাইন্সের তুলনায় কিছুটা বেশি ভাড়া দিয়ে হলেও বিমানে যাতায়াত করতে সিলেটের মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাই তারা সিলেট আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকেই যাতায়াত করতে চান। এ জন্য বিমান সিলেট-লন্ডন-সিলেট সরাসরি ফ্লাইটও চালু করেছিল। কিছু দিন চলার পর নানা করণে তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রবল দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আবারও চালু করা হয় বিমানের সরাসরি ফ্লাইট। তবে শুধু লন্ডন-সিলেট ফ্লাইট। সপ্তাহে দুটি। কিন্তু অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট না থাকায় সংকট রয়েই যায়। সিলেট-লন্ডন ও মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীরা পড়েছেন দারুণ বিপাকে। কারণ, লন্ডন থেকে আসা দুটি ফ্লাইটে যাত্রীসংকুলান হচ্ছে না। এতে সিলেট বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমান যাত্রীদের চাপ বেড়েছে বহুগুণ। গত সোমবার বিমানের ফ্লাইট বাতিল হয়ে যাওয়ায় ১৪০ জন লন্ডন যাত্রীর পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। অবশ্য বিমান কর্তৃপক্ষ বলেছেন, আজ মঙ্গলবার বিকল্প ফ্লাইটে তাদের ঢাকায় পাঠানো হবে। কেউ কেউ ভিসার মেয়াদ সহ নানা সমস্যার কারণে রাতেই সড়ক পথে ঢাকায় চলে যান। সিলেট আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে সহকারী স্টেশন ম্যানেজার গতকাল মঙ্গলবার বিকালে ইত্তেফাককে জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৫টায় একটি এয়ার বাস এসে পৌঁছানোর কথা এবং এটিতে ১৯৭ জন যাত্রী যেতে পারবেন। সোমবার সিলেট থেকে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রী ওসমানী নগরের আব্দুল সায়েদ জানান, টিকেট বুকিং দেয়ার সময় ২৫ ডিসেম্বর সিলেট থেকে ফ্লাইট হবে বলে জানানো হয়। পরে সিলেট বিমান অফিস থেকে পুনরায় ফোন দিয়ে জানানো হয়, তাদের ফ্লাইট ২৪ ডিসেম্বর এগিয়ে আনা হয়েছে। গত সোমবার দুপুরেও পুনরায় ফোন দিয়ে তাদের আসার ব্যাপারে নিশ্চিত করেন কর্তৃপক্ষ। সায়েদ জানান, বিমান কর্মকর্তাদের কথা অনুযায়ী সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় সিলেট আন্তর্জাতিক ওসমানী বিমান বন্দরে উপস্থিত হন। তখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনিবার্য কারণবশত ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানান। আর যাত্রীদের সড়ক পথে ঢাকায় যাওয়ার জন্য বলা হয়। এই ফ্লাইটের অপর যাত্রী মাহবুব জানান, বিমানের খামখেয়ালীপনায় প্রচণ্ড দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের। এ সময় বিমান কর্মকর্তাদের সাথে যাত্রীদের বচসাও হয়। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের স্টেশন ম্যানেজার জিল্লুর রহমান জানান, বিমানের ঐ ফ্লাইটটি সময়মত পৌঁছতে পারেনি। ঢাকা থেকে আগ মুহূর্তে জানানো হয় ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়েছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, হযরত শাহজালাল (রহ.) বিমানবন্দরে রানওয়েতে কাজ চলছে তাই রাতে ফ্লাইট বন্ধ থাকে। তাই ঐ ফ্লাইটটি কর্তৃপক্ষ বাতিল করে দেন।