খুলনায় আধুনিক জেলা কারাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২১১ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত একটি জরুরি সভা আজ বুধবার জেলা প্রশাসক মো. মেজবাহউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হবে। ভূমি অধিগ্রহণের জন্য আরো ২২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা চেয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ে জরুরি কাগজপত্র পাঠানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। শতাব্দী প্রাচীন খুলনা জেলা কারাগারে বর্তমানে ধারণ ক্ষমতার তিনগুণ বন্দি ঠাসাঠাসি করে থাকছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নগরীর উপকণ্ঠ ডুমুরিয়া উপজেলার চক মথুরাবাদের আসানখালি মৌজার ৩০ একর জমিতে নতুন এ কারাগার নির্মাণ করা হবে। ভূমি অধিগ্রহণের পর সেখানে ডিজিটাল সার্ভে করা হবে। ডিজিটাল সার্ভে রিপোর্ট পূর্ত মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার পর ফাইনাল লে-আউট প্ল্যান প্রস্তুত করা হবে।
সূত্র জানায়, দুই হাজার বন্দি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন আধুনিক কারাগারটি সিলেট কেন্দ ীয় কারাগার প্রকল্পের আদলে নির্মিত হবে। নতুন কারাগারে বন্দিদের জন্য ১০০ বেডের একটি হাসপাতাল থাকবে। এছাড়া মহিলাদের জন্য ২০ বেডের একটি ও বন্দি টিবি রোগীদের জন্য ২৫ বেডের আলাদা আরেকটি টিবি হাসপাতাল থাকবে। কারাগারটিতে বন্দিদের পড়ার জন্য স্কুল, উন্নতমানের লাইব্রেরি, খাবারের জন্য ডাইনিং রুম, আধুনিক সেলুন ও লন্ড্রি থাকবে। কারাগারে শিশুদের জন্য থাকবে পৃথক ওয়ার্ড ও ডে-কেয়ার সেন্টার। সেখানে শিশুদের জন্য লেখাপড়া, খেলাধুলা, বিনোদন ও সংস্কৃতি চর্চার জন্য ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া শিশুসহ মা বন্দিদের জন্যও থাকবে আলাদা আরেকটি ওয়ার্ড । এ ওয়ার্ডটিতে সাধারণ মহিলা বন্দি থাকতে পারবে না। কারাগারে পুরুষ ও মহিলা বন্দিদের হন্তশিল্পের কাজের জন্য আলাদা আলাদা ওয়ার্কশেড, বিনোদন কেন্দ ও নামাজের ঘর থাকবে। পুরুষ ও মহিলা বন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে আসা দর্শনার্থীদের জন্যও থাকবে আলাদা সাক্ষাত্কার কক্ষ। ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ১৮৮২ সালের ১ জুন মহাকুমা শহর থেকে উন্নীত হয়ে খুলনা জেলার যাত্রা শুরু হয়। ত্রিশ বছর পর ১৯১২ সালে তত্কালীন ব্রিটিশ সরকার ভৈরব নদের তীরে খুলনা জেলা কারাগারের প্রশাসনিক ভবন স্থাপন করে। এ ভবনটিকে ১৯৮৬ সালে গণপূর্ত বিভাগ পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নোটিস টানিয়ে দেয়। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ওই ভবন থেকে পাশের একটি ভবনে জেল সুপারের দফতর স্থানান্তর করা হয়। তবে এখনো ওই ভবনে রয়েছে জেলার ও ডেপুটি জেলারের দফতর। গত বছর ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রশাসনিক ভবনটি সংস্কার করা হলেও তা আজো ঝুঁকিমুক্ত হয়নি।
এ ব্যাপারে খুলনা জেলা কারাগারের জেলার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আধুনিক নতুন কারাগার নির্মাণের পর বন্দিদের জন্য অনেক সুযোগ-সুবিধা বেড়ে যাবে। শতাব্দী প্রাচীন পুরাতন কারাগারটিতে অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বন্দিদের থাকা-খাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে।
