খুলনায় মৌসুমী পিঠার ব্যবসা জমজমাট

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২১
শীত শুরুর সাথে সাথে খুলনা মহানগরীতে মৌসুমী পিঠা ব্যবসায়ীরা সরঞ্জাম নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে গড়ে তুলেছেন ছোট-বড় দোকান। নগরীর প্রাণকেন্দ্র শহীদ হাদিস পার্ক, জাতিসংঘ শিশু পার্ক, শামসুর রহমান রোড, সন্ধ্যা বাজার, দোলখোলা মোড়, রূপসা বাসস্ট্যান্ড, ময়লাপোতা মোড়, মোল্লাবাড়ি মোড়, সোনাডাঙ্গা, বয়রা, বৈকালী, খালিশপুর, দৌলতপুর, ফুলবাড়ীগেট সরেজমিনে ঘুরে দেখা মিলেছে মৌসুমী পিঠার ছোট-বড় অসংখ্য দোকান। এসব দোকানে সাধারণত দোকান মালিক নিজে বা তার পরিবারের অন্য সদস্যরা কর্মরত আছেন। এছাড়া অনেক দোকানে মহিলা পিঠা বিক্রি করছেন। এসব পিঠার দোকানে কুলি পিঠা, পান পিঠা, ভাপা পিঠা, পাকন পিঠা, চিতই পিঠাসহ রকমারী পিঠা বিক্রি করা হয়। তবে চিতই পিঠার চাহিদাই বেশি। পিঠার সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের গুড়, সরিষা বাটা ও ধনিয়া পাতা দিয়ে তৈরি আচার দিয়ে পিঠাপ্রেমীদের আপ্যায়ন করা হয়। নগরীর জাতিসংঘ শিশুপার্ক সংলগ্ন পিঠার দোকানের মালিক শামসুল হক সরকার জানান, স্ত্রীসহ তার সংসারের সদস্য সংখ্যা ৫ জন। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়েও পিঠা ব্যবসার সাথে জড়িত। তার দোকানে প্রতিদিন ১৫শ’ থেকে ২ হাজার পিঠা বিক্রি হয়। মূলত সন্ধ্যা থেকে রাত ১০/১১টা পর্যন্ত চলে পিঠার ব্যবসা। তিনি বলেন, পিঠা বিক্রির আয় থেকেই তার সংসার চলে। প্রতিদিন ৮শ’ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হয়। তারপরও পাঁচজন মানুষ যেখানে কাজ করছে, সেখানে এই লাভ কিছুই নয়। তিনি বলেন, দোকান ঘর বাবদ প্রতিমাসে ২ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয়। এছাড়া প্রশাসনের লোকজন প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ পিঠা খেয়ে যায়। নগরীর রূপসা ফেরিঘাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এখানে প্রায় ১৫ থেকে ১৮টি পিঠার দোকান গড়ে ওঠেছে। এসব পিঠা ব্যবসায়ী সারাবছরই পিঠা বিক্রি করে তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন। পিঠা ব্যবসায়ী সালেহা বেগম (৩৮) জানান, গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে তিনি পিঠার ব্যবসা করছেন। প্রতিদিন তার দোকানে তিন থেকে চার হাজার টাকার পিঠা বিক্রি হয়। তাদের ৭ সদস্যের সংসার পিঠা বিক্রির টাকা দিয়ে মোটামুটি চলছে। এছাড়া তার দুই ছেলে ও এক মেয়ের লেখাপড়া চালাচ্ছেন বলে তিনি জানান। জাতিসংঘ শিশু পার্কের কাছে শামসুল হকের পিঠার দোকানে পিঠা কিনতে আসা গৃহবধূ শামীমা নাসরিন বলেন, সব সময় বাসা-বাড়িতে পিঠা তৈরি করা যায় না। তাই মাঝে-মধ্যে এখান থেকে পিঠা কিনে নিয়ে যাই। বাজারে তৈরি পিঠার মান খুব একটা খারাপ নয়। নগরীর সরকারি আযম খান কমার্স কলেজের শিক্ষার্থী রিফাত, ইমন ও সোনিয়া বলেন, আমরা বন্ধুরা মাঝে-মধ্যে পিঠা কিনে খাই। সত্যি—পিঠা খেতে খুব মজা লাগে।