ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ অনিশ্চয়তার শেষ কোথায়

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৪৩
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়! অনিশ্চয়তার যেন শেষ নেই। স্বাধীন দেশের প্রথম প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি আজ গভীর অন্ধকারে হাবুডুবু খাচ্ছে। ছাত্র সংগঠনগুলোর মাঝে বার বার সংঘর্ষ, শিক্ষকদের নোংরা রাজনীতি, শিক্ষার্থী গুম, হল লুটসহ নানান কারণে অকারণে বার বার ব্যাহত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম। সর্বশেষ ছাত্রসংগঠনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তাব্যক্তিদের কারণে গত তিনমাস যাবত্ অচল হয়ে আছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্বোচ্চ এ বিদ্যাপীঠটি। ১৯৭৯ সালে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ জেলার মধ্যবর্তী শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুরের মফস্বল অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়টি। সম্পূর্ণ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় না হওয়ায় প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ১১ হাজার শিক্ষার্থীকেই কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ জেলা শহর ও আশপাশের মেসগুলোতে অবস্থান করতে হয়। ফলে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ থেকে যথাক্রমে ২৪ ও ২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টিকে পরিবহন নির্ভর হতে হয়। অবস্থানগত কারণেই ক্যাম্পাসটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন্ধ হয়ে যায়। ক্যাম্পাসের সমস্যা হতে উত্তরণে সরকারকে কখনোই কার্যকর কোন ত্বরিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। ছাত্রলীগসহ ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারারের নিয়োগ বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়টি বিগত তিনমাস যাবত্ অঘোষিত বন্ধ থাকলেও সরকার কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। ফলে সহসাই অনিশ্চয়তা কাটছে না বিশ্ববিদ্যালয়টির। তাই সংশ্লিষ্ট সকলের এখন একটিই জিজ্ঞাসা— এ অনিশ্চয়তার শেষ কোথায়? শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. এম এয়াকুব আলী বলেন,‘বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৩৭ কোটি টাকা বাজেট ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা স্বজনপ্রীতি, অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য ও দলীয়করণের মাধ্যমে নজিরবিহীন গণনিয়োগ দিয়ে ক্যাম্পাসের এই অচলাবস্থা সৃষ্টি করেছেন। দীর্ঘদিন যাবত্ এই অচলাবস্থার কারণে ১৩ হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হলেও সরকার এখনো কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। তিনি বলেন, আমরা বলে দিতে চাই এই দুর্নীতিবাজ ভিসি, প্রো-ভিসি যদি অচীরেই পদত্যাগ না করেন তাহলে শিক্ষার্থীদেরকে সাথে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।’ ভিসি প্রফেসর ড. এম আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ আনা হয়েছে তা পুরোপুরি সত্য নয়। ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকারের উপরের মহলকে আমি বিস্তারিত জানিয়েছি। সরকারের উপর মহল থেকে যেকোন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আমি আছি।’