‘তারা ক্ষমতাসীন দলের লোক, তাই রাত-দিন মিলে ইচ্ছে মতো ট্রাক লাগিয়ে বালু বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগসাজশে গত এক সপ্তাহ যাবত্ ট্রাকযোগে যার যার ইচ্ছে মতো বালু উত্তোলন করে নিলেও দেখার কেউ নেই। রূপসপুর এবং ধূপাটিলা গ্রামের কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি শ্রমিক লাগিয়ে লাঘাটা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে এভাবে বালু উত্তোলন করে নিলেও দেখার কেউ নেই।’ গতকাল বুধবার সকালে লাঘাটা নদীর কেওলার হাওর এলাকায় বালু উত্তোলনকৃত স্থান দেখতে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মরত স্থানীয় কৃষি শ্রমিকরা এই প্রতিবেদকের কাছে এভাবেই মন্তব্য করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার লাঘাটা নদীর কয়েকটি স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের হিড়িক শুরু হয়েছে। বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় লোকজন গত এক সপ্তাহ যাবত্ কেওলার হাওর সংলগ্ন লাঘাটা নদীর কয়েকটি স্থান থেকে হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হয়েছে। শুকনো মৌসুমে হাওরের কৃষিজমির উপর দিয়ে ট্রাকের যাতায়াতের সুব্যবস্থা করে উত্তোলিত বালু ট্রাকযোগে পরিবহন করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বালু উত্তোলনকৃত দুই জন শ্রমিক বলেন, রূপসপুর গ্রামের মুকুল মিয়া, বকুল মিয়াসহ লাঘাটা নদীর পতনউষার ইউনিয়নের কেওলার হাওর এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলনের পর ট্রাক বোঝাই করে গোপনে বিক্রি করছেন। তবে তারা শ্রমিক হিসাবে মজুরিতে কাজ করছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত কয়েক বছর যাবত্ শুকনো মৌসুমে রূপসপুর গ্রামের মুকুল মিয়া এভাবে হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করে বিক্রি করেছেন। স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি জানান, এভাবে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর নিচ ও পাড় খনন করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ বিপর্যয়েরও আশঙ্কা রয়েছে। তবে অভিযোগ বিষয়ে মুকুল মিয়ার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কমলগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি ১৪১৯ বাংলা সনে লাঘাটা নদী ইজারা দেয়া হয়নি। মুন্সিবাজার ইউনিয়ন তহশিল অফিসের তহশিলদার সুবিনয় কান্তি বর্মণ বলেন, তিনি সংবাদ পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে কয়েকটি স্থানে বালু উত্তোলনের স্তূপাকার দেখেছেন। তবে কাউকে পাওয়া যায়নি। তিনি আরো বলেন, স্থানীয় বাজারে যাওয়ার পরই বালু উত্তোলনকারীরা তার উপস্থিতি টের পেয়ে গাড়ি নিয়ে সরিয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকাশ কান্তি চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, লাঘাটা নদী থেকে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে মুন্সিবাজার তহশিল অফিসের লোক পাঠিয়েছেন। তদন্তক্রমে উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
