রুমির চরে জেলে পল্লী স্থাপনের দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৫৭
পশ্চিম সুন্দরবনে রুমির চরে জেলে পল্লী স্থাপনে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে মঙ্গলবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে সমুদ্রগামী জেলে ও তাদের সন্তানরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। এর আগে জেলেরা সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সন্মেলন করে। সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, পশ্চিম সুন্দরবনে মাদারবাড়ীয়া বর্তমানে অভয়ারণ্য হওয়ায় জেলেদের জন্য মাছ ধরা নিষিদ্ধ রয়েছে। অথচ ওই স্থানে হাজার হাজার জেলে দীর্ঘদিন ধরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত। এদিকে বর্তমানে দুবলারচরে বিকল্প মত্স্য আহরণের একমাত্র ক্ষেত্র হওয়ায় সেখানে আশংকাজনকহারে জেলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখ্য, বিগত ঘূর্ণিঝড় আইলা ও সিডরে সুন্দরবনের আলোর কোলে অনেক জেলে নিহত হয়। বর্তমানে দুবলার চরে জলদস্যুদের হামলা ও মুক্তিপণের কারণে সাতক্ষীরা অঞ্চলের জেলেরা সেখানে যেতে সাহস পাচ্ছে না। প্রতিনিয়ত জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করছে জলদস্যু একাধিক বাহিনী। এসব কারণে জেলেরা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে। সংবাদ সন্মেলনে লিখিতভাবে জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড় আইলা ও সিডরের আঘাতের পর জেলেদের স্বার্থে সুন্দরবনের পশ্চিম বনবিভাগের অভয়ারণ্য ঘোষিত কম্পার্টমেন্ট-৫৪-এর মাদারবাড়ীয়া দক্ষিণ সাগরের জেগে ওঠা চর যা রুমির চর নামে পরিচিত অঞ্চলটি অভয়ারণ্যের বাইরে রেখে জেলে পল্লী ঘোষণা করুন। জেলেদের দাবি: রুমির চরে জেলে পল্লী স্থাপন হলে সাতক্ষীরা ও খুলনা উপকূলবর্তী বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার জেলের মাছ আহরণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। রুমির চরটি বর্তমানে ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও দুই কিলোমিটার প্রস্থ। বর্ষাকালে চরটি প্লাবিত হলেও শীতকালে চরটি কয়েক মাস জেগে থাকে। সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর গ্রামের মো. জহুরুল ইসলাম।