নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার অধিকাংশ ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর বেহাল অবস্থা। অপব্যবহার ও সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে একদিকে যেমন কোটি কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি, অপরদিকে দুর্যোগ মুহূর্তে অসহায় লোকদের নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে প্রাণহানির আশংকা বাড়ছে। হাতিয়া দ্বীপের চতুর্দিকে রয়েছে নিঝুম দ্বীপ, ঢালচর, বয়ারচরসহ অনেক জনবসতিপূর্ণ চরাঞ্চল। এখানকার মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গত ৩০ বছরে হাতিয়া দ্বীপে প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় অর্ধলাখ লোক প্রাণ হারিয়েছে। ১৯৯১ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের পর হাতিয়ায় বিভিন্ন দাতাসংস্থা ও সরকারি অনুদানে ১০৫টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ আশ্রয় কেন্দ্রের বেহাল অবস্থা। অধিকাংশ কেন্দ্রের দরজা-জানালা নেই, নলকূপ অকেজো, ল্যাট্রিনগুলো অপরিষ্কার। অনেক আশ্রয় কেন্দ্রে যাবার মত পথ নেই। গরু-মহিষ বছরের অধিকাংশ সময় শেল্টারগুলো নোংরা করে রাখে। অনেকের বাড়ির দরজায় নির্মিত আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন শস্য রাখা হচ্ছে। এছাড়া কিছু কিছু আশ্রয় কেন্দ্রের দেয়াল ও ছাদের আস্তর খসে পড়ছে। নিঝুম দ্বীপের একটি আশ্রয় কেন্দ্রের সামনে থেকে মাটি খনন করে পুকুর তৈরি করায় আশ্রয় কেন্দ্রটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। ফলে দুর্ঘটনা ও দুর্যোগের সময় আশ্রয় কেন্দ্রের ভেতরে কেউ প্রবেশ করতে চায় না। স্থানীয় প্রশাসন ও দাতা সংস্থাসমূহের সুষ্ঠু তদারকির অভাবে আশ্রয় কেন্দ্রগুলো দিন দিন আশ্রয়ের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
