মানুষ বেঁচে থাকার জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয়সহ সকল চাহিদার সংকুলান করে তার উপার্জন বা সক্ষমতার মাধ্যমে। পারিবারিকভাবে প্রাপ্ত সম্পদ ব্যবহারের অধিকার এবং উপার্জনের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ ব্যয় করার ক্ষমতাকে সক্ষমতা বলা হয়। আরো অনেক পথে অর্থের প্রাপ্তি ঘটতে পারে। ব্যক্তির ক্ষেত্রে যেমন উপার্জনের বা সক্ষমতার উপর ব্যয় করার ক্ষমতা নির্ভর করে, তেমনি একটি দেশের সরকারের ক্ষেত্রেও অনেকটা তাই। বিশ্ব থেকে দারিদ্র্য বিমোচনের পরিকল্পনায় জাতিসংঘও সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়ে ২০১৬ সালে ১৭টি লক্ষ্য নিয়ে গ্রহণ করেছে ‘সাসটেইনবল ডেভেলপমেন্ট গোলস’। অনেক দেশের মতো বাংলাদেশও এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশীদার।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটির বেশি, যার অধিকাংশ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল বা গরিব। এ কারণেই মুক্তিযুদ্ধের একটি লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিক মুক্তি। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা কর্মসংস্থান। বাংলাদেশে সাড়ে ৪ কোটি বেকার, শিক্ষিতদের মধ্যে শতকরা ৪৭ ভাগ বেকার। যদি আমাদের সরকার উপযুক্ত পরিকল্পনা এবং সততার সঙ্গে উন্নয়নের সকল কাজ বাস্তবায়ন করে তাহলে দেশেই সবার কর্মসংস্থান সম্ভব।
বাংলাদেশের নির্বাচন, বাজেট সব কিছুতে মানুষের আর্থিক সক্ষমতার প্রভাব প্রত্যক্ষ করা যায়। ১০ হাজার টাকা আয়সীমার কতজন মানুষ সরকারকে কর দিতে পারবে বা দেওয়া উচিত তা বিবেচনায় নিলে চাহিদামত কর অনাদায়ের কারণ পাওয়া যাবে। তবে আমরা যদি দক্ষ জনশক্তি গড়তে পারি তাহলে উপযুক্ত যোগ্যতা নিয়ে বিদেশে সম্মানের সঙ্গে চাকরি বা ব্যবসা মন্দ না। সব দেশেই দক্ষ জনবলের প্রয়োজন আছে। এমনকি বাংলাদেশেও বেশকিছু সংখ্যক বিদেশি চাকরি করছেন সরকারের অনুমতি নিয়ে।
২০১৯ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষায় সাড়ে ১৩ লাখের বেশি ছেলেমেয়ে অংশ নিচ্ছে এবং কিছুদিন আগে অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ২১ লাখ ৩৫ হাজারেরও বেশি ছেলেমেয়ে। ২০১৭ সালের মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬১৩ জন ছেলেমেয়ে এবং পাসের হার ছিল ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ঝরে পড়া যোগ হয়ে এবার ঐ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে মাত্র ১৩ লাখের অল্প কিছু বেশি।
বর্তমান বিশ্বের উন্নয়নের প্রতিযোগিতার মেলায় বাংলাদেশ বড়ো অসহায়। উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন অর্থ। দেশের অধিকাংশ মানুষ কর দেয় না বা দিতে পারে না। ফলে এই অর্থের জন্য উন্নত বিশ্বের সাহায্য নিতে হয়। উন্নত বিশ্বের দেশ তার স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সাহায্য করে থাকে। যা হোক, বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা হচ্ছে। রাস্তাঘাট, বিদ্যুত্, শিক্ষাক্ষেত্রে বিদেশি ঋণ, সাহায্যে উন্নয়ন কাজ চলছে। এই উন্নয়নের সুফল ঘরে তুলতে হবে। আমাদের সন্তানরা যেন উপযুক্ত শিক্ষা নিয়ে উন্নত বিশ্বের মানবসম্পদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের “গ্লোবাল কম্পিটিটিভনেস রিপোর্ট-২০১৮”-এ দেখা যায়, বাংলাদেশের অবস্থান ১৪০টি দেশের মধ্যে ১০৩তম, আগের বছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০২তম। সরকার শিক্ষার উন্নয়নে অনেকদিন যাবত্ অনেক কাজ করছে, তারপরেও আমাদের সন্তানদের সক্ষমতার জায়গায় আরো কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে ভিক্ষার দিন শেষ, আর ভিক্ষার মাধ্যমে জীবন ধারণে সম্মানের কিছুই নেই। আমরা যুদ্ধ করে, রক্ত দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছি, সাহায্য দেওয়ার জন্য।
n লেখক : এফসিএ। চেয়ারম্যান, এডুকেশান ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন
