অনাবাদি জমিতে আলু চাষ

ভাগ্যবদলে আশাবাদী নওগাঁর দু’শতাধিক কৃষক

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:০১
নওগাঁ সদর উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নে শাখা যমুনা নদীর চরে আলু চাষ করে সাফল্য লাভ করতে চায় স্থানীয় দুই শতাধিক কৃষক। পতিত জমিতে আলু চাষের এ কাজে কৃষককে সহযোগিতা করেছে নওগাঁ সদর উপজেলা কৃষি বিভাগ। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মতে আধুনিক প্রযুক্তি ও সমন্বিত বালাই দমন পদ্ধতি প্রয়োগ করে বক্তারপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর, মুরাদপুর, হরিপুর, মুক্তারপাড়া, খোগসবাড়ি, চাকলা ও বক্তারপুর গ্রামের প্রায় আড়াইশ’ কৃষক পতিত জমিতে আলু চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। স্থানীয় চাষিদের মতে- সহসা কোনো দুর্যোগ না হলে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে তারা আলুর বাম্পার ফলন ঘরে তোলার আশা করছেন। জানা যায়, নওগাঁ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চৌধুরী আবু আলা মওদুদী ও তার কয়েকজন সহকর্মীর নেতৃত্বে স্থানীয় বক্তারপুর ইউনিয়নে শাখা যমুনা নদীর চরে ৪১৪ বিঘা পতিত জমিতে চলতি রবি মৌসুমে প্রথমবারের মতো বিভিন্ন জাতের আলু চাষের উদ্যোগ নেয়া হয়। স্থানীয় কৃষকরা জানান, চরের মাটির গুণাগুণসহ আধুনিক প্রযুক্তির চাষাবাদ সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা না থাকায় এর আগে সেখানে কোনো রবি ফসল ফলানো সম্ভব হয়নি। কিন্তু এই প্রথম তাদের ভুল ভাঙাতে এগিয়ে আসে নওগাঁ সদর উপজেলা কৃষি বিভাগ। কৃষকরা জানান, আলু ক্ষেতে পোকার আক্রমণ ঠেকাতে তারা কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে জমির আইলে প্রতীকী সরিষার আবাদ করে বালাই দমন করেন। উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মকলেছুর রহমান জানান, সরিষার হলুদ রংয়ের ফুলের প্রতি বিভিন্ন ধরনের পোকা-মাকড় আকৃষ্ট হওয়ায় আলু ক্ষেত ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চৌধুরী আবু আলা মওদুদী জানান, বক্তারপুর ইউনিয়ন এলাকায় থাকা শাখা যমুনা নদীর চরে প্রায় ৪১৪ বিঘা জমিতে উফশি জাতের কার্ডিনাল, ডায়ামন্ট, ফেলশিনা এবং দেশীয় লাল পাকড়ি, শীলবিলাতি, সাদাগুটি, হাগরাই ও পাটনাই জাতের আলুর আবাদ করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, গতবছরের সেপ্টেম্বর মাসে একদিন তিনি ওই এলাকায় একটি সবজি ক্ষেত পরিদর্শনে গিয়ে অনাবাদি ওই চরের সন্ধান পান।