কসবায় স্ত্রীকে মেরে লাশ রেললাইনে ফেলে রাখার অভিযোগ

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:০২
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় রেললাইনে কাটা পড়ে রোজিনা আক্তার নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি মেয়েটির স্বামী ও পরিবারের লোকজন তাকে মেরে রেললাইনে লাশ ফেলে রাখে। মঙ্গলবার দুপুরে মন্দভাগ রেলস্টেশন থেকে লাশটি উদ্ধার করেছে আখউড়া রেলওয়ে জিআরপি থানা পুলিশ। অভিযোগে প্রকাশ, একই কায়দায় ৫ বছর আগেও তার বড় বোন শিউলী আক্তারকে মেরে ফেলে ওই স্বামী। নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কসবা উপজেলার কাইমপুর গ্রামের আবুল হাসেমের বড় মেয়ে শিউলী আক্তারকে ১২ বছর আগে বিয়ে দেন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা ইউনিয়নের জামতলী গ্রামের আবদুর রশিদের পুত্র তফাজ্জল হোসেনের (৩৭) সাথে । বিয়ের পর থেকে মেয়েটির উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত তফাজ্জল ও তার পরিবারের লোকজন। তাদের পরিবারের ২টি পুত্র সন্তান রয়েছে। এক পর্যায়ে সে ২০০৮ সালে আত্মহত্যা করে। পরে এলাকার সাহেব সর্দারদের এক সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে আবুল হাসেমের ছোট মেয়ে রোজিনা আক্তারকে তফাজ্জলের সাথে ২০০৮ সালে আবারও বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পর তাদের ঔরসে একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। তফাজ্জল আবুধাবীতে চাকরি করেন। তখন থেকেই তার পরিবারের লোকজন মেয়েটির উপর নির্যাতন চালায়। এবছর ৫ অক্টোবর দেশে আসেন তফাজ্জল। বাড়িতে এসেই তফাজ্জল নিজেই নির্যাতন শুরু করেন। এ নিয়ে ২০/২৫ দিন আগে তফাজ্জলের বাড়িতে কয়েক দফা বৈঠক হয়। গত সোমবার গভীর রাতে রোজিনা আক্তারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এমন একটি খবর তার মায়ের মোবাইলে দেয় তফাজ্জলের মামা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রোজিনা আক্তারের ভাই ফরিদ মিয়া, খালাত ভাই আবুল হাসনাতসহ কয়েকজন লোক জামতুলী গেলে তফাজ্জল ও তাদের পরিবারের লোকজন তাদেরকে আটকে রেখে নির্যাতন চালায়। পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাদেরকে ছেড়ে দেয়। পরে রোজিনা আক্তারের পরিবারের লোকজন সনাক্ত করে রোজিনা আক্তারের লাশ। মন্দভাগ রেলস্টেশন মাস্টার জয়নাল আবেদীন বলেন; ধারণা করা হচ্ছে কেউ মেয়েটিকে মেরে রেলস্টেশনের ৩ নং লাইনে ফেলে রাখে। রেললাইনে লাশটি নিয়ে যাওয়ার পথে ফোঁটা ফোঁটা রক্ত পড়ে আছে।