পদ্মাসেতু প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র মামলায় প্রধান দুই আসামি সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া ও সেতু কর্তৃপক্ষের নদীশাসন বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদৌসকে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার দুপুর পৌনে দুইটার দিকে হাইকোর্ট থেকে বের হওয়ার পর গণপূর্ত ভবনের সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। উইং কমান্ডার মো. তাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে দুদকের একটি দল তাদের আটক করে। আটকের পর দুপুর ২টায় তাদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নেয়া হয়। সেখান থেকে গতকাল সন্ধ্যায় তাদের শাহবাগ থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
এর আগে গতকাল সকালে ওই মামলায় জামিন নিতে হাইকোর্টে যান তারা দুজন। বুধবার হাইকোর্টের অবকাশকালীন বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চ এ দু’জনের জামিন আবেদনের শুনানি নাকচ করে আবেদনটি নিয়মিত বেঞ্চে উত্থাপন করতে বলেন। এরপর হাইকোর্ট থেকে ফেরার পথে আটক হন তারা। আদালতসূত্র জানায়, হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তাদের আগাম জামিনের আবেদন ৯৪ ও ৯৫ ক্রমিক নম্বরে ছিল। সিনিয়র আইনজীবী রফিক-উল হক ওই দুই আবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন।
এ দুইজনের গ্রেফতারের ব্যাপারে উইং কমান্ডার মো. তাহিদুল ইসলাম জানান, এ মামলার আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত ছিল। গতকাল দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুদক কর্মকর্তারা গণপূর্ত ভবনের সামনে ওত পেতে থাকেন। দুপুর পৌনে দুইটার দিকে এ দুজন গাড়ি নিয়ে শাহবাগ এলাকার দিকে যেতে গেলে দুদক কর্মকর্তারা ধাওয়া করে গতিরোধ করেন। এরপর তাদের কাছে দুদক কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে গ্রেফতার করা হয়।
এই মামলায় যেসব আসামি এখনো গ্রেফতার হননি তাদের কবে গ্রেফতার করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে গতকাল বিকালে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, যারা এখনো গ্রেফতার হয়নি তাদের কখন গ্রেফতার করা হবে সেটা নির্ধারণ করবে তদন্ত টিমের সদস্যরা। সাবেক দুই মন্ত্রীর নজরদারির ব্যাপারে তিনি বলেন, সবই যদি বলে দেই তাহলে তদন্ত বাধাগ্রস্ত হবে।
গ্রেফতারকৃত মোশারফ ও ফেরদৌসের ব্যাপারে তিনি বলেন, আজ বৃহস্পতিবার গ্রেফতারকৃত এ দুজনকে আদালতে হাজির করা হবে। এরপর তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ থেকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে। বিদেশি আসামিদের ব্যাপারে তিনি বলেন, বিদেশি তিনজন একই অভিযোগে বিচারাধীন রয়েছেন। তাই তাদের এই মামলায় দেশে আনার ব্যাপারে কি কি আইনগত ব্যবস্থা রয়েছে তা বিবেচনা করা হচ্ছে। কানাডা সরকারের রেসপন্সের অপেক্ষায় রয়েছে দুদক।
উল্লেখ্য, গত ১৭ ডিসেম্বর পদ্মাসেতু দুর্নীতির মামলায় সাতজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর বনানী থানায় মামলা দায়ের করে দুদক। মামলায় মোট আসামি করা হয় সাতজনকে। এর মধ্যে বাংলাদেশের চারজন হচ্ছেন সাবেক সেতু সচিব মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, সেতুর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগে দরপত্র মূল্যায়নে গঠিত কমিটির সদস্য সচিব কাজী মো. ফেরদৌস, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াজ আহমেদ জাবের, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড প্ল্যানিং কনসালট্যান্ট লিমিটেডের (ইপিসি) উপ-পরিচালক মো. মোস্তফা। এছাড়া বিদেশি তিনজন হলেন কানাডার নাগরিক ও এসএনসি লাভালিনের সাবেক পরিচালক (আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের) মোহাম্মদ ইসমাইল, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ শাহ ও কেভিন ওয়ালেস। তবে ওই মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, এসএনসি লাভালিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশের নোটবুকে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীকে ‘পারসেন্টেজ’ (কমিশন) প্রদানের উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু পরিপূরক সাক্ষ্য সংগ্রহ করতে না পারায় এজাহারে তাদের নাম দেয়া হয়নি। তাদের অপরাধের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তকালে খতিয়ে দেখা হবে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
