কমিটিতে আসছে নতুন মুখ

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৮
দীর্ঘ নয় বছর পর আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন। দুপুর ২টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তনের পাশে স্থাপিত বিজয় মঞ্চে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এ সম্মেলনের মাধ্যমেই ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে জায়গা পেতে অনেকেই মরিয়া হয়ে প্রচারণা ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন। তবে, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মহানগরের আগামী কমিটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে দলীয় হাইকমান্ড। এজন্য নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমলে নেয়া হবে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতারা মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে পারেন। আগামী ২৯ ডিসেম্বর দলের কেন্দ্রীয় ত্রিবার্ষিক কাউন্সিলের মাত্র দু’দিন আগে মহানগরের কাউন্সিল হওয়ায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে একধরনের আমেজ দেখা যাচ্ছে। দলের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, এবারের কমিটিতে বেশকিছু নতুন মুখ আসতে পারে। ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও থাকবেন-নয়জন সহ-সভাপতি, তিনজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তিনজন সাংগঠনিক সম্পাদক। সম্মেলনে প্রায় দুই হাজার কাউন্সিলর এবং ৩ হাজার ডেলিগেটসহ প্রায় ৬ হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। জানা গেছে, ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চললেও গত কাউন্সিলের মতো এবারও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষমতা দেয়া হতে পারে দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর। কাউন্সিলরা গতবার শেখ হাসিনাকেই কমিটি নির্বাচনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। মহানগরের একজন সিনিয়র নেতা ইত্তেফাককে বলেছেন, দলের সভানেত্রীর হাতে কাজটি ছেড়ে না দিলে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। অনেকে কাউন্সিলরদের ভোটও মানতে চান না। সেক্ষেত্রে সভানেত্রী কমিটি গঠন করে দিলে তা নিয়ে উচ্চবাচ্য হয় না। তবে সভানেত্রী এ কমিটি গঠনের আগে দলের অনেক সিনিয়র নেতার সঙ্গে আলোচনা করেন। সম্মেলন আজ হলেও আগামী ২৯ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনেই মহানগরের নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করা হবে বলে সূত্র জানিয়েছে। এবার ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদপ্রার্থীদের মধ্যে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, এডভোকেট রহমতউল্লাহ এমপি। অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীদের মধ্যে আছেন আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম, আসলামুল হক এমপি, শাহে আলম মুরাদ এবং আওলাদ হোসেন। তবে শেষ পর্যন্ত কমিটিতে সভাপতি পদে এম এ আজিজ এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া থাকতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তিন বছর মেয়াদী ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কাউন্সিল হয়েছিল ২০০৩ সালের ১৮ জুন। ২০০৬ সালের নভেম্বর মাসে মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশন মেয়র মোহাম্মদ হানিফের মৃত্যুর পর এখন পর্যন্ত কমিটির সভাপতি নির্বাচন করা হয়নি। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দিয়েই চলে আসছে ঢাকা মহানগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আওয়ামী লীগের সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম। গত কয়েকবছর চেষ্টা করেও মহানগরের কাউন্সিল করা যায়নি। এবার নির্বাচনের আগে দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জানা গেছে, মহানগরের যেসব নেতাকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা দেয়া যাবে না তাদেরকে মহানগর কমিটিতে জায়গা দেয়া হতে পারে। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের আগামী নির্বাচনও মহানগর কমিটিতে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ইতিমধ্যে পদপ্রত্যাশী নেতারা গোটা রাজধানীতে বড় বড় ডিজিটাল ব্যানার, সাইনবোর্ড, পোষ্টার ও লিফলেট লাগিয়েছেন। সম্মেলন স্থলের আশপাশের লাইটপোষ্টে টাংগানো হয়েছে নেতাদের বড় বড় ছবি। বর্তমান কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজ জানান, সম্মেলন সফল করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। চারটি উপ-কমিটি কাজ করেছে। থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে দলের সদস্য নবায়নের ফরম, কাউন্সিলের দাওয়াতপত্র পাঠানো হয়েছে।