১৯৭২ সালেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে কোলাবরেটর্স অ্যাক্ট করে ট্রাইব্যুনাল করা হয়েছিল। অনেককে যুদ্ধাপরাধের দায়ে গ্রেপ্তার করে কারাবন্দি করা হয়েছিল। কিন্তু সাবেক প্রেসিডেন্ট বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধ করে আটকদের মুক্তি দিয়েছিলেন। এ কথা বলেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
গতকাল বুধবার সংবাদ সম্মেলনে হাসানুল হক ইনু একথা বলেন। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার-প্রক্রিয়া নিয়ে ‘বিভ্রান্তিকর প্রচারের’ জবাব দিতে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী জানান, ১৯৭২ সালে স্পেশাল ট্রাইব্যুনালস অর্ডার জারি করার পর যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ৩৭ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে ১০ থেকে ১২ হাজার জনের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠনসহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল।
তখন বিচারের জন্য ৭৩টি স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালে বিচারশেষে ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ৬৮ জনকে যাবজ্জীবন ও ৭৫২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয়া হয়েছিল। ।
তথ্যমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির পক্ষ থেকে যেসব বক্তব্য দেয়া হচ্ছে সে প্রসঙ্গের অবতারণা করে বলেন, এসবই করা হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে এবং বিচার বন্ধের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে। যাদের বক্তব্য প্রচলিত আইনের পরিপন্থী হবে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তথ্যমন্ত্রী একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের যুদ্ধাপরাধের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরে বিচার-প্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের বক্তব্য খণ্ডন করেন।
৪০ বছর ধরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কেন করা হয়নি? বিরোধীদের এমন বক্তব্য খণ্ডন করে হাসানুল হক ইনু বলেন, যারা বলেন যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি তারা ঠিক বলছেন না।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন বলে যে কথা বিরোধীরা বলেন, তা খণ্ডন করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ৩৭ হাজারের মধ্যে যে ১০ থেকে ১২ হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল তাদের বিচার ট্রাইব্যুনালে চলছিল। শুধু রাজনৈতিক কারণে যাঁরা পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন, কিন্তু কোন ধরনের যুদ্ধাপরাধে জড়িত ছিলেন না, এমন ২৩ হাজার মানুষকে সাধারণ ক্ষমা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সামরিক শাসন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোলাবরেটরস স্পেশাল ট্রাইব্যুনালস অর্ডার বাতিল করে দেয়া হয়। এতে যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রাথমিক উদ্যোগ ব্যাহত হয়। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়া বিচারের কাজ সরাসরি বন্ধ করে দেন। আইনটি বাতিল করে দেন। যে ১০ থেকে ১২ হাজার লোক যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে বিচারাধীন ও কারাগারে ছিলেন, তাঁদের মুক্ত করে দেয়া হয়।
এরশাদ সরকারও যুদ্ধাপরাধের বিচারের ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় এসে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে। বঙ্গবন্ধু ও চার নেতা হত্যার বিচারকাজ শুরু করা হয়। ২০০৯ সালে আবার ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনার সরকার একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকাজ শুরু করে।
