পরম
দয়ালু আল্লাহ তায়ালা মানুষকে তাঁর প্রতিনিধি রূপে সৃষ্টি করেছেন (সূরা আল বাকারা-আয়াত- ৩০)। তাই মানুষ শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। আর মুসলমানরা আল্লাহর সর্বোত্তম উম্মত (সূরা আল ইমরান আয়াত-১১০)। আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে তাঁর প্রিয় সর্বোত্তম উম্মত ও প্রতিনিধির দায়ীত্ব কর্তব্য কি এবং কি ভাবে সে দায়ীত্ব ও কর্তব্য সম্পন্ন করতে হবে সে দিক-নির্দেশনা ও হাতে কলমে তা কার্যকরি করে দেখানোর জন্য বিভিন্ন সময় কেতাব ও নবী রসূল প্রেরণ করেছেন। আমাদের জন্য পাঠিয়েছেন মহা বিশ্বের মহা বিস্ময় মহাগ্রন্থ বিজ্ঞানময় আল কোরআন এবং মহা মানব সর্ব শ্রেষ্ঠ রসূল হযরত মোহাম্মদ (স.) কে। মহাগ্রন্থ আল কোরআনে আছে মানুষের ইহকাল পরকালের সুখ, শান্তি, সৃমদ্ধি, উন্নতি প্রগতি ও নিরাপত্তার দিক নির্দেশনা। সর্বকালের সর্বস্তরের সব মানুষের সব সমস্যার সমাধান আছে এ মহাগ্রন্থে। আছে আরো কত বিষয়ের কত কথা। সর্বোত্তম উম্মত ও আল্লাহর প্রতিনিধি হওয়ার/তৈরি করার সর্বশ্রেষ্ঠ দিক-নির্দেশনা দান কারি এ মহাগ্রন্থ আল কোরআনের সর্ব প্রথম দিক নির্দেশনা... “ছবক, নির্দেশ, হুকুম, উপদেশ বা আদেশ “পাঠ করুন আপনার পালন কর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন”... (সূরা আলাক আয়াত-১)। পাঠ করা অর্থ পড়া, প্রচার করা, ঘোষণা করা, বোঝা, জানা, গবেষনা করা, চর্চা করা...। লক্ষনীয় মহাগ্রন্থ আল কোরআনের নির্দেশনা হিসাবে সর্ব প্রথম নামাজ পড়ার, রোজা রাখার, হজ্জ করার, জাকাত দেওয়ার কথা বলা হয় নাই। বলা হয়েছে পড়ার কথা। পাঠ করুন প্রথম নির্দেশনা হওয়ায় ইহা প্রধান নির্দেশনাও বটে। বিস্ময়ের বিষয়, পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালার প্রথম নির্দেশনা “পাঠ করা” এর ওপর যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয় না আদৌও। ধর্ম সভায়, জুমআর খুত্বায়, তবলিগের বয়ানে, বিশ্ব এস্তেমায়, আরাফাতের খুত্বায়, রেডিও, টিভি, আলোচনায়, লেখা লেখিতে “পাঠ করার” কথা কম বলা হয়। কম বলা হয় কারণ:(১) মহা জ্ঞানী, সর্ব শক্তিমান আল্লাহ তায়ালা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়াছেন বলে সর্ব প্রথম নির্দেশনা হিসাবে “পাঠ করুন” উল্লেখ করেছেন, এ সত্য কেহই সম্যক উপলদ্ধি করতে পারেন না। এ ব্যাপারে চেষ্টাও করেন না, প্রয়োজনও বোধ করেন না। (২) সবাই নিজেদের ব্যক্তি প্রয়োজনে বা পেশার প্রয়োজনে যতটুকু দরকার তার বেশি পড়েন না, গবেষনা, জ্ঞান চর্চাও করেন না কেউ। পরিনতিতে আমরা (সাধারণ লোক এবং শ্রদ্ধেয় আলেম-ওলামাগণ) আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধরতে পারি না। আল্লাহর নির্দেশমত কোরআন পড়ি না-জ্ঞান অন্বেষণে যাই না আমরা। ফলে বিশেষ করে আমাদের শ্রদ্ধেয় আলেম-ওলামাগণ অসংখ্য দল উপদলে বিভক্ত হয়ে পরস্পর হিংসা বিদ্বেষ, ঝগড়া-বিবাদ কাদা ছোড়াছড়িতে ন্যাক্কার জনক ভাবে নিজেদের শক্তি, শ্রম, মেধা ও সময় নষ্ট করেন। অথচ ১৯৪৭ সালে প্রথম স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত সু--দী--র্ঘ পঁয়ষট্টি বছর যদি তারা আল্লাহর রজ্জু সুদৃঢ়ভাবে আঁঁকড়িয়ে ধরে সুচিন্তিত, সুপরিকল্পিত এবং আন্তরিকভাবে দক্ষতা, বিজ্ঞতার সাথে নিঃস্বার্থ ভাবে প্রচার-প্রসার ও প্রতিষ্ঠার জন্য সততা ও বিচক্ষনতার সাথে নিরলসভাবে নিজেদের শক্তি, সামর্থ, শ্রম, মেধা ও সময় ব্যয় করতেন তাহলে নিশ্চিত করে বলা যায় এদেশের মানুষ পড়ুয়া, সর্বোত্তম উম্মত ও একান্ত ভাবেই আল্লাহ্র প্রতিনিধিরূপে গড়ে উঠত। শতকরা আশি জন মুসলমানের এদেশে কোরআনের আলোকে আলোকিত জীবন ব্যবস্থা আসতো। শত ভাগ উজ্জল সম্ভাবনা থাকা সত্বেও এদেশে তা হয় না। আসলে ঐ কাজ করার মত উপযুক্ত দূরদর্শি বিজ্ঞ ও যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব আমাদের সমাজে অনুপস্থিত। [চলবে]
