গর্ভে কন্যাশিশু ধারণ করার অপরাধে স্বামী-শ্বশুরের লোহার খুন্তির ছ্যাকা, আচড়া দিয়ে জখম, জখমে মরিচের গুঁড়া দেয়াসহ মধ্যযুগীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছে বরগুনা সদর উপজেলার ছোট লবনগোলা গ্রামের গৃহবধূ শেফালী বেগম (২৪)। এ ঘটনায় শেফালী বাদী হয়ে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ীকে আসামে করে মামলা করেছেন।
জানা যায়, আমতলী উপজেলার ঘটখালী গ্রামের মো. রত্তন মিয়ার মেয়ে শেফালী বেগমের সঙ্গে বরগুনা সদর উপজেলার ছোট লবনগোলা গ্রামের আ. মজিদ মিয়ার ছেলে জসিম উদ্দিনের বিয়ে হয় ২০০১ সালে। এরপর শেফালীর গর্ভে মীম নামে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। কন্যা সন্তান জন্ম নেয়ার কারণে স্বামীসহ শ্বশুর-শাশুড়ী শেফালীর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। দ্বিতীয় সন্তানটিও কন্যা হওয়ায় অত্যাচারের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। গত ১০ ডিসেম্বর রাতে তার স্বামী জসিম পুনরায় এক লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে বলায় সে তা অস্বীকার করে। এসময় আসামিরা শেফালীর হাত-পা বেঁধে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরে। বিষয়টি মোবাইল ফোনে শেফালী পিতা রত্তন মিয়াকে জানালে তার সহায়তায় পরদিন পালিয়ে সে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়। এঘটনায় পুলিশ আসামি জসিম উদ্দিনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়।
