বেগমগঞ্জ বিএনপি অনৈক্যের মধ্যেও সক্রিয়

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:১৮
বিএনপি’র দুর্গ বেগমগঞ্জে কিছু ভিন্নমত থাকলেও মূলত স্থানীয় সংসদ সদস্যই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। অপরদিকে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল সর্বক্ষণ চলতে থাকায় বেগমগঞ্জে বি এন পি সাংগঠনিকভাবে খুবই শক্তিশালী না হলেও ফলাফল নিজেদের পক্ষেই আসে। এক সময় বৃহত্তর নোয়াখালীর রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ হতো বেগমগঞ্জ তথা চৌমুহনী থেকে। কালক্রমে তা অন্যত্র সরে গেলেও বেগমগঞ্জের গুরুত্ব কোন অংশে কমেনি। বেগমগঞ্জ জনসংখ্যার দিক দিয়ে দেশের বৃহত্ উপজেলা ছিল। দু’টি জাতীয় সংসদ আসন ছিল। আশির দশকের নির্বাচনে বেগমগঞ্জে একটি আসন করা হয়। ২০০৪ সালে বেগমগঞ্জের উত্তরাঞ্চলের ১০টি ইউনিয়ন ও সোনাইমুড়ী পৌরসভা নিয়ে সোনাইমুড়ী উপজেলা গঠিত হয়। ২০০৮-এর নির্বাচনে সোনাইমুড়ীর পূর্বাঞ্চলের ৪টি ইউনিয়ন ও সোনাইমুড়ী পৌরসভা নোয়াখালী-১(সেনবাগ) আসনের সাথে এবং পশ্চিমাঞ্চলের ৬টি ইউনিয়ন নোয়াখালী-২ (চাটখিল) আসনের সাথে যুক্ত করা হয়। বেগমগঞ্জের ১৬টি ইউনিয়ন ও চৌমুহনী পৌরসভা নিয়ে নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) গঠিত হয়েছে। এ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল ও এক গ্রুপ অপর গ্রুপকে নির্বাচিত না হওয়ার জন্য যাবতীয় পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। এর ফলে ১৯৭৩ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত উক্ত আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিততে পারেননি। বিএনপি’র দলীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৩ সালের পর থেকে বেগমগঞ্জে কোন সম্মেলন হয়নি। একাধিকবার কমিটি ভেঙ্গে আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়েছিল। ২০০৯ সালে স্থানীয় সংসদ সদস্য বরকতউল্যা বুলুর বাড়িতে উপজেলা ও চৌমুহনী পৌরসভার নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা ও চৌমুহনী পৌরসভার কমিটি ঘোষণা করে। এতে বিএনপি’র একাংশ খুশি হতে না পারলেও সাংগঠনিকভাবে তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। অবশ্য ইদানিং মঞ্জুরুল আজীম সুমন, আবদুল্যা আল বাকীসহ কতিপয় নেতা কিছু সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে বিএনপি’র কেন্দ ীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ মাযহারুল ইসলাম দোলনকে নিয়ে মাঠে নেমেছেন। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক নেতা জানান, ১৯৯৩ সালের পর থেকে বেগমগঞ্জে বিএনপি’র কোন সম্মেলন হয়নি। ২০০৯ সালে এমপি’র বাড়িতে একটি বর্ধিত সভায় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। এ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য বরকতউল্যা বুলুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বেগমগঞ্জে বিএনপি’তে কোন বিভক্তি নেই। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দলের কাজ করে যাচ্ছে। মঞ্জুরুল আজীম সুমন, আবদুল্যা আল বাকীসহ যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে তারা দল থেকে বহিষ্কৃত। দলের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তাদের কথা বলার অধিকার নেই।