গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চলের খাটিয়ামারী গ্রাম থেকে গত ২২ নভেম্বর উদ্ধারকৃত অজ্ঞাত লাশটির পরিচয় একমাস পর পাওয়া গেছে। লাশটি ছিল কুমিল্ল¬া জেলার মেঘনা উপজেলার লুটেরচর গ্রামের সানাউল্যার ছেলে সারোয়ার হোসেনের (১৬)। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্ল¬ার কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম রসুল জানান, কুমিল্লার কোতোয়ালী থানায় গত ৩ ডিসেম্বর নিহতের চাচাতো ভাই শাহজালালের দায়েরকৃত মামলার সূত্র ধরে সারোয়ারের সহকর্মী একই গ্রামের সোহাগকে (১৭) সন্দেহমূলক গ্রেফতার করা হয়। পরে পুলিশের কাছে সোহাগের দেয়া স্বীকারোক্তি মোতাবেক হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত কুমিল্লা জেলার মেঘনার ডিটল (৩০), আবু বক্কর সিদ্দিক (১৯), রুবেল (২৫), গাইবান্ধার ফুলছড়ির আ.মতিন (৪০), হাসেম মিয়াকে (৪৫) ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা পুলিশের কাছে সারোয়ার হোসেনের হত্যার ঘটনা স্বীকার করে।
পুলিশ জানায়, পূর্বপরিকল্পিতভাবে খুনিরা কুমিল্লা জেলার মেঘনার ডিটল, আবু বক্কর সিদ্দিক, রুবেল, সোহাগ, গাইবান্ধার ফুলছড়ির আ. মতিন ও হাসেম মিয়া কৌশলে সারোয়ারকে অপহরণ করে। সেই মোতাবেক নিহত সারোয়ারকে ঢাকার সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তার পরিচিত হাসেম মিয়া ও আ. মতিন যাত্রাগান দেখানোর কথা বলে তাদের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের খাটিয়ামারীতে নিয়ে আসে। সেখানে ১৭ নভেম্বর দিবাগত রাতে স্থানীয় এক বাজারে তারা যাত্রাগান দেখে। পরে রাত গভীর হলে তারা বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব খাটিয়ামারী এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের বালুচরে আ. মতিন, হাসেম মিয়া এবং তাদের সহযোগীরা মিলে সারোয়ারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তাকে যাতে কেউ সনাক্ত করতে না পারে সেজন্য ধারালো ছোরা দিয়ে মুখমণ্ডলের মাংস কেটে লাশের বিকৃতি ঘটায়। হত্যাকারীরা হাসেমের শ্বশুরবাড়ি থেকে কোদাল এনে ওখানে মাটির নিচে লাশ পুঁতে রাখে। এদিকে তাদের সহযোগী ডিটল ও সোহাগ মোবাইল ফোনে নিখোঁজ সারোয়ারের পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
