গোমস্তাপুরে নবান্ন উত্সব \ পিঠা-পুলি বানানোর ধুম

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:২১
পৌষের শুরুতে গ্রামের কৃষাণ-কৃষাণীর ছেলে-মেয়েদের আনন্দ দেয়ার জন্য প্রতিবছর নবান্ন উত্সবের আয়োজন করেন গ্রামের শিক্ষিকা মমতাজ বেগম। চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পৌর এলাকার বাবুরঘোন গ্রামে এ নবান্ন উত্সবটি আয়োজন করে ওই গ্রামেরই উত্তর রহনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মমতাজ বেগম। এলাকার ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের প্রিয় শিক্ষিকাকে ৫ কেজি করে সংগ্রহ করা মাঠের ধান দিয়ে এ নবান্ন উত্সবকে উত্সাহিত করে। প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন ছাত্র-ছাত্রী ও এলাকার উত্সাহী কৃষাণীরা এতে অংশ নেয়। ওইদিন এলাকায় উত্সবের পিঠা খাওয়ার ধূম পড়ে যায়। লাল-হলুদ শাড়ি পরে ছাত্রীরা। সারাদিন পিঠা তৈরি ও নাচে-গানে মেতে উঠে। পল্লী গ্রামের হারিয়ে যাওয়া ঢেঁকি ও যাঁতার শব্দ ওই দিনটিতে শুনতে পাওয়া যায়। সংগ্রহকৃত ধান থেকে ঢেঁকি ছাঁটা চালের যাঁতায় পিষা আটা দিয়ে হরেক রকমের পিঠাপুলি খেতে আসে বিভিন্ন এলাকার উত্সুক মানুষ। এ সময় গ্রামের গীত গায় ছাত্র-ছাত্রীরা। গ্রামের এ ঐতিহ্যকে উত্সাহ জোগাতে ছুটে আসে স্থানীয় সংসদ সদস্য জিয়াউর রহমান প্রমুখ। এ ব্যাপারে শিক্ষিকা মমতাজ বেগম জানান, তার নানা-নানী বহু যুগ ধরে বিভিন্ন পিঠাপুলি বানিয়ে গ্রামের মানুষকে দাওয়াত করে খাওয়াত। সে থেকে এ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে প্রতিবছর গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে উত্সবটি পালন করে আসছেন।