দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী ও মোহামেডান বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ শুক্রবার বিকাল সাড়ে চারটায় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের খেলায় মুখোমুখি হচ্ছে। বিটিভি ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।
এমন একটা সময় ছিল যখন দর্শককে ঢাকঢোল পিটিয়ে জানানোর প্রয়োজন হতো না এই দুই দলের ম্যাচের কথা। বরং সারা দেশ আলোড়িত হতো তাদের খেলাকে ঘিরে। কারণ ফুটবলে আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ মানেই ছিল ক্রীড়াঙ্গনে টান টান উত্তেজনা। স্টেডিয়াম এলাকায় মারমুখো পরিবেশ। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ফায়ার সার্ভিসকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে রাখতে হতো। নব্বুই দশকের গোড়া পর্যন্ত আবাহনী-মোহামেডান নিয়ে তর্ক যুদ্ধ হতো ঘরে ঘরে, পরিবারের মধ্যে। সেটি এখন আর নেই। ঘরোয়া ফুটবলের সেই জৌলুশও গেছে হারিয়ে। মাঠে নেই সত্যিকারের তারকা ফুটবলার। পায়ের কাজ, দৃষ্টিনন্দন হেড, রেইনবো শট, ডিফেন্সচেরা পাস— এখন আর এগুলো খুঁজে পাওয়া যায় না। এনায়েত, মো. মহসিন, কাজী সালাহউদ্দিন, শেখ মো. আসলাম, ওয়াসিম, মোনেম মুন্না, কায়সার হামিদ, সাব্বিররা যেভাবে দর্শক মাঠে আকৃষ্ট করতেন তেমন ফুটবলার এখন মাঠে নেই। ফুটবল আর তার আগের উত্তাপ ছড়ায় না; কিন্তু কথাটা মানতে নারাজ মোহামেডান অধিনায়ক মতিউর মুন্না। তিনি মনে করেন না জৌলুশ কমে গেছে। তার কাছে এখনো মোহামেডান-আবাহনী মানেই উত্তেজনা। হয়তো মাঠে দর্শক কম; কিন্তু খেলোয়াড়দের মনে এখনো এটি উত্তেজনার ম্যাচ। পথে-ঘাটে আলোচনা কম হয় তো কি? কিন্তু খেলোয়াড়দের আগ্রহে কমতি নেই। কি কারণে দর্শক আগ্রহ কম? এমন প্রশ্নে মোহামেডান অধিনায়ক বলেন, ‘যার সামর্থ্য যতটুকু প্লেয়াররা ততটুকুই তুলে ধরবে। ইংলিশ ফুটবলের খেলা আশা করা ঠিক হবে না।’
ফুটবল জৌলুশ নিয়ে মতিউর মুন্নার কথার সাথে এক মত প্রকাশ করতে পারেননি আবাহনী অধিনায়ক ওয়ালী ফয়সাল। ‘ফুটবলে জৌলুশ একেবারেই নেই কথাটা ঠিক না। আগের মতো আর নেই। আগে যেমন এক সপ্তাহ আগেই পাড়া-মহল্লায় দুই দলের পতাকা উড়তে দেখা যেত, সেটা নেই। তবে গ্যালারিতে সমর্থক কমে গেছে। কাজ ফেলে কেউ মাঠে আসতে চায় না। তা ছাড়া এখন প্রচার কম—বললেন ডিফেন্ডার ওয়ালী ফয়সাল।
মোহামেডান অধিনায়ক মতিউর মুন্নার কাছে আবাহনী-মোহামেডান সেরা ম্যাচ হচ্ছে দুই হাজার সালেরটি, যখন প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে মোহামেডান চার গোলে হারিয়েছিল আবাহনীকে। সে ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন ইমতিয়াজ আহমেদ নকিব, চতুর্থ গোলটি ছিল মতিউর মুন্নার। ওয়ালী ফয়সালের কাছে স্মরণীয় ম্যাচ ২০০৫ সালেরটি, যেবার আবাহনী ৫-০ গোলে হারিয়েছিল মোহামেডানকে।
পুরনো সব কথা বাদ দিয়ে ওয়ালী ফয়সাল এবং মতিউর মুন্না আলোচনায় ফিরলেন আজকের ম্যাচ নিয়ে। দুই অধিনায়ক একটা ব্যাপারে একমত, পরিস্থিতি যেমনই হোক আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ হবে উত্তেজনার।
পয়েন্ট টেবিলে আবাহনী-মোহামেডান এখন সমান স্থানে। ৫ খেলায় ১০ পয়েন্ট করে পেয়েছে দুই দল। এই দিক থেকে কেউ কারো চেয়ে পিছিয়ে নেই। মানসিক শক্তির দিক থেকে সমান স্থানে। মোহামেডানের মূল শক্তি বিদেশি ফুটবলার। নাইজেরিয়ান অগাস্টিন, ঘানাইয়ান মরিসন দারুণ ফর্মে। গোলকিপার মামুন খানও ভালো খেলছেন। তবে মাঠে দেখা যাচ্ছে না মিডফিল্ডার মারুফকে। ক্লাব জানিয়েছে মারুফের ইনজুরি নেই। তারপরও কেন তাকে সেরা একাদশে দেখা যাচ্ছে না তার সদুত্তর কেউ দিতে পারেননি। মতিউর মুন্নার দল গতকাল বিকালে ক্লাবের আঙ্গিনাতেই অনুশীলন করেছে। অসুস্থতা কাটিয়ে চার দিন আগে দায়িত্ব নিয়েছেন মোহামেডান কোচ সাইফুল বারী টিটু।
গতকাল বিকালে অনুশীলন সারল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ‘আজ বিগ ম্যাচের উদ্দেশ্যে ক্লাব থেকে রওনা দেবো। চ্যাম্পিয়ন হতে হলে আজ জিততে হবে। আজকের ম্যাচের উপর নির্ভর করছে ফাইটে থাকা না থাকার বিষয়। আমরা সবাই প্রস্তুত-কথাগুলো একটানা বলে গেলেন অধিনায়ক ওয়ালি ফয়সাল। চার খেলায় ১০ পয়েন্ট নিয়ে পেছনেই দাঁড়িয়ে আছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব।
গ্রামীণফোন পেশাদার ফুটবলের এবার ষষ্ঠ আসর চলছে। গত পাঁচ আসরে আবাহনী-মোহামেডান মুখোমুখি লড়াইয়ে দশবার মাঠে নামে। এর মধ্যে পাঁচ ম্যাচ ড্র, আবাহনী জিতেছে তিনবার, মোহামেডান একবার। শেষ বারের মুখোমুখিতে মোহামেডান জিতেছিল ২-০ গোলে। পরিসংখ্যান নয়, দর্শক চায় মাঠের পারফরম্যান্স। দেখতে চায় জৌলুশ পূর্ণ ফুটবল। এমন প্রত্যাশা মেটাতে পারেন আবাহনীর সুজন, ওয়ালি ফয়সাল, ব্রাজিলীয় সিলভা, ঘানাইয়ান সামাদ ইউসুফ, স্বদেশি ফরোয়ার্ড ইব্রাহিম ও ফ্রাঙ্ক, কেমেরুনের থমাস ইয়োকো, মোহামেডানের শরিফুল, সোহেল রানা, ইয়াসিন, মিন্টু শেখ, ঘানাইয়ান ওসে মরিসন, নাইজেরিয়ান চিজোবা অগাস্টিনরা। ফুটবল সমঝদাররা মাঠে আসতে পারেন, একটা ভালো এবং উত্তেজনার ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন।
লিগে আবাহনী-মোহামেডানের
প্রথম পাঁচ ম্যাচ
আবাহনী ৩-০ সকার ক্লাব
আবাহনী ২-১ আরামবাগ
আবাহনী ২-০ ব্রাদার্স
আবাহনী ০-০ শেখ জামাল
আবাহনী ০-১ শেখ রাসেল
মোহামেডান ৩-০ ব্রাদার্স
মোহামেডান ০-১ শেখ জামাল
মোহামেডান ৩-১ শেখ রাসেল
মোহামেডান ১-১ বিজেএমসি
মোহামেডান ১-০ আরামবাগ
