সক্ষমতা অর্জন হলে পিএসআই চলে যাবে :অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১১
আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে প্রাক জাহাজীকরণ পরিদর্শন প্রথা (পিএসআই) আরো ৬ মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই ৬ মাসের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সক্ষমতা অর্জন করলে পিএসআই প্রথা উঠে যাবে। গতকাল অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এনবিআরের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠককালে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। প্রসঙ্গত আগামী জানুয়ারি থেকে পিএসআই প্রথা উঠে যাওয়ার কথা। অর্থমন্ত্রী গত বাজেট বক্তৃতায়ও এই প্রথা জানুয়ারি থেকে আর থাকছে না বলে উল্লেখ করেছিলেন। গতকাল অর্থমন্ত্রী বলেন, পিএসআই প্রথা আরো ৬ মাস অন্তর্বর্তীকালীন হিসেবে থাকছে। বিভিন্ন পর্যায়ে ধীরে ধীরে তা উঠে যাবে। তবে এই প্রথা একেবারে উঠে যাবে না এমনটি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, পিএসআই একেবারে উঠে যাবে না। কারণ এটি খুব জটিল বিষয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটি আছে। পাকিস্তান আমল থেকেই এই পদ্ধতির সহায়তা নেয়া হতো। তবে এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন ইত্তেফাকের সাথে আলাপকালে জানিয়েছেন, আমদানি পণ্যের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এসাইকুডা ওয়ার্ল্ড এখনো সব স্টেশনের সাথে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ জন্য অন্তর্বর্তীকালের জন্য শুধুমাত্র নির্ধারিত কয়েকটি পণ্যের ক্ষেত্রে (২৫ শতাংশ শুল্ক সম্পন্ন আমদানি পণ্য) এটি থাকবে। তিনি বলেন, ৬ মাসের পর কোন অবস্থাতেই পিএসআই প্রথা থাকবে না। সম্ভব হলে তারও আগেই এটি বাতিল হতে পারে। উল্লেখ্য, পণ্য আমদানি ক্ষেত্রে দেশে বাধ্যতামূলকভাবে পিএসআই ব্যবস্থা চালু হয় ২০০০ সালে। বিশ্বকে ৫টি ব্লকে ভাগ করে ৪টি কোম্পানিকে সরকার নিয়োগ দিয়েছে। বর্তমানে যে চারটি কোম্পানি পিএসআইয়ের দায়িত্ব পালন করছে সেগুলো হচ্ছে সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক কোম্পানি এসজিএস, ফ্রান্সভিত্তিক ব্যুরো ভেরিটাস ব্রিটিশভিত্তিক আইটিএস ও জাপানভিত্তিক কোম্পানি অমিক। আমদানি করা পণ্যের পাঁচটি বিষয় নিশ্চিত করে পিএসআই কোম্পানি। এগুলো হলো পণ্যের গুণগতমান, পরিমাণ, মূল্য, এইচএস কোড (পণ্য পরিচিতি কোড) ও আমদানিযোগ্যতা। এই পাঁচটি বিষয় নিশ্চিত করে পিএসআই সংস্থা সিআরএফ (ক্লিন রিপোর্ট ফাইন্ডিংস) সনদ ইস্যু করে থাকে। এর ভিত্তিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের শুল্কায়ন করে মালামাল খালাস করে। পিএসআই কোম্পানি যে সার্ভিস প্রদান করে তার বিপরীতে নির্ধারিত হারে চার্জ কেটে নেয়। বর্তমানে আমদানিকারকরা পিএসআইয়ের জন্য ১ শতাংশ হারে চার্জ দিয়ে থাকেন। তবে এর একটি অংশ পায় সরকার। প্রায় দেড় ঘন্টাব্যাপী বৈঠকে অর্থমন্ত্রী রাজস্ব আদায়ে গতিশীলতা আনার তাগিদ দেন কর্মকর্তাদের। এছাড়া মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে আটকে থাকা মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আদায়ের উপায় বের করারও তাগিদ দেন তিনি। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, রাজস্ব আদায় বাড়ানো হবে। এজন্য এনবিআরের কার্যক্রমে আরো শক্তিশালী করা হবে। চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যাবে বলেও মনে করেন তিনি। চলতি বছর ১ লাখ ১২ হাজার ২৫৯ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করেছে এনবিআর। বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, অর্থমন্ত্রী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে করের আওতা বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দিয়েছেন।