ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসিবি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ব্যবসায় প্রতারণা: চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকার’ শীর্ষক এক সেমিনারে আইসিসিবি সভাপতি মাহবুবুর রহমান উল্লেখ করেছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সাথে যারা যুক্ত আছে তারা প্রতারক এবং জালিয়াতদের কাছ থেকে বর্ধমান হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকের প্রতারনার ঘটনা বেসরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহকেও ঝাঁকি দিয়েছে এবং প্রকৃত কোম্পানিগুলোর ব্যাংক থেকে অর্থ সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এছাড়া, বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ এলসি খোলার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করার ফলে নিকটতম অতীতে আমদানি কমেছে। যদি এ ধারা অব্যাহত থাকে প্রত্যাশিত শিল্পের ভিত্তি ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। বুধবার অনুষ্ঠিত সেমিনারে তিনি আরো উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ের ব্যাংকিং প্রতারণা আর কিছুই নয় এটা কিছু ব্যাংক কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগসাজশে তথাকথিত কোম্পানীর জালিয়াতি। বাংলাদেশ ব্যাংককে অবশ্যই পূর্ণ স্বায়ত্ত্বশাসন দিতে হবে। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকসমূহের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং ডিভিশনেরও কোন হস্তক্ষেপ থাকা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের আধুনিক জালিয়াতি শনাক্তকরনের পদ্ধতি উদ্ধাবন করা দরকার বলে তিনি মনে করেন।
বাংলাদেশকে এখন উদীয়মান বাণিজ্যিক দেশ হিসাবে বিবেচনা করা হয়, যার বাণিজ্যের পরিমান ৬০ বিলিয়ন ডলার। যেহেতু আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাড়ছে তাই এর সাথে সম্পৃক্ত সবারই প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। আমদানি-রপ্তানির বাজার যত সম্প্রসারিত হচ্ছে ততই প্রতারণাসহ অজানা ঝুঁকির সম্ভাবনা বাড়ছে বলে আইসিসিবি সভাপতি উল্লেখ করেন।
ঢাকা চেম্বার সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম তার বক্তৃতায় বলেন উচ্চ সুদের হার, জ্বালানি সংকট, রাজপথের আন্দোলন এবং উপুর্যপরি হরতাল সত্ত্বেও দেশে স্থির প্রবৃদ্ধি বিরাজ করছে। তিনি ব্যাংকিং খাতের পুরোনো দিনের নীতি বদলানোর পরামর্শ দেন এবং বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ তৈরির উপর জোর দেন।
বিআইবিএম মহাপরিচালক ড. তৌফিক এ. চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন চলতি অর্থনৈতিক মন্দাকে অনুসরন করে ডকুমেন্ট বাতিলের হার বেড়েছে এবং এর প্রভাব দ্রব্যমূল্যের উপর পড়েছে। পেমেন্টকে বিলম্বিত করা অথবা রপ্তানিকারককে অস্বস্তিতে ফেলার জন্য বাতিল করা ইউসিপির মূলমন্ত্রের সাথে যায়না। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে, এরকম উদাহরণ আছে যেখানে ব্যাংকগুলো ডকুমেন্ট শুধু প্রত্যাখানের জন্য প্রত্যাখান করে এবং বৈষম্যের জন্য চার্জ করে। এগুলিও ইউসিপির নৈতিকতার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
সোনালী ব্যাংকের প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হোসেইন তাঁর বক্তৃতায় বলেন, ব্যাংকিং খাতে প্রতারণা আমাদের দেশে নতুন নয়। তবে আগে যেখানে বড়জোর চারটা থেকে পাঁচটা একাউন্টে হতো এখন তা ত্রিশ-ষাটটা একাউন্টে হয়। এটা থেকে অনুমান করা যায় যে ব্যাংকগুলোর ঋণের একটা বড় অংশ প্রতারকদের হাতে চলে যায় যা শিল্পের জন্য বিপদ সংকেত।
