পাকিস্তানের বাণিজ্যিক নগর করাচিতে রবিবার থেকে শুরু হওয়া সহিংসতায় মঙ্গলবার নতুন করে সাতজন নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। তিনদিন ধরে চলা এ সহিংসতায় শহরটিতে এ পর্যন্ত ২৬ জন মারা গেছে। মঙ্গলবার ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’র খবরে এ কথা জানানো হয়। মঙ্গলবার করাচির জনবহুল এলাকা গুলশান-ই-ইকবালে ধর্মীয় সংগঠন আহলে সুন্নত জামায়াতের নেতা মওলানা আওরঙ্গজেব ফারুকির গাড়িতে মোটরসাইকেল আরোহী এক বন্দুকধারী হামলা চালায়। এ হামলায় ওই নেতার চালক ও তিন নিরাপত্তা রক্ষী নিহত হয়। পরে মওলানা ফারুকিকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সংখ্যালঘু শিয়া সমপ্রদায় এ হামলা চালিয়েছে দাবি করে আহলে-ই-সুন্নতের মুখপাত্র তাজ মোহাম্মদ হানাফি জানান, মওলানা ফারুকির অবস্থা এখন স্থিতিশীল। তিনি তার অনুসারীদের শহরের নিরাপত্তা বজায় রাখতে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে মওলানা ফারুকির ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে করাচির বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এ সহিংসতায় গতকাল সাতজন মারা গেছে। এর আগে গত সোমবার শহরের নাজিমাবাদ এলাকায় বন্দুকধারীর হামলায় দুই ভাইসহ মোট ১০ জন নিহত হয়। শিয়া ও সুন্নি সমপ্রদায়ের মধ্যে চলা গত তিনদিনের সহিংসতায় এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে পৌঁছেছে।
সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। দেশটিতে ১৯৯০ সাল থেকে এ পর্যন্ত শিয়া-সুন্নি সংঘর্ষে প্রায় চার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।
