সাত দফা দাবিতে সোমবার ভোর ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সিলেট বিভাগে কর্মবিরতি পালন করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটি। ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকে সিলেট নগরীতে বাস-অটোরিকশা চলাচল করেনি। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় হাজার হাজার যাত্রীদের। তবে বেশি সমস্যায় পড়েন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। সিলেট বিভাগের চার জেলা সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ. মৌলভীবাজার, সিলেট জেলা এবং বিভিন্ন উপজেলার সড়কে চরম ভোগান্তিতে ছিলেন যাত্রীরা।
ধর্মঘটের কারণে সিলেট কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও কুমারগাঁও বাস টার্মিনাল থেকে কোন বাস ছেড়ে যায়নি। এমনকি সিলেট বিভাগের অন্যান্য বাস স্টেশন থেকেও কোন যান চলাচল করেনি। এতে দূরপাল্লার যাত্রীরা পড়েন ভীষণ বিপাকে। অনেক নারী-পুরুষকে এই তীব্র গরমে অসহায় হয়ে বাস টার্মিনালে বা সড়কে বসে থাকতে দেখা যায়। নিরুপায় হয়ে কেউ কেউ ছুটেন রেল স্টেশনের দিকে। কিন্তু সেখানেও টিকেট সংকট।
গতকাল রেল স্টেশনে ছিল অস্বাভাবিক ভিড়। সিলেট থেকে প্রতিটি রুটে ট্রেনের টিকেট সংকট লেগেই থাকে। এর মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকলে রেলের ওপর চাপ পড়ে অত্যাধিক। গতকাল সকাল থেকেই সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে দেখা যায় উপচেপড়া ভিড়। সকাল থেকে ছেড়ে যাওয়া আন্তঃনগর কালনী, জয়ন্তিকা, পাহাড়িকা ও পারাবত এক্সপ্রেস ছেড়েছে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে।
সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের অতিরিক্ত ম্যানেজার শহীদুর রহমান বলেন, ধর্মঘট চলায় সোমবার ট্রেনগুলো কয়েকগুণ অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ছেড়ে গেছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সেলিম আহমদ ফলিক জানান, মৌলভীবাজারের শেরপুরে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ঘোরি মো. ওয়াসিম আব্বাস মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার ধারা ৩০২ এর স্থলে ৩০৪ করাসহ সাত দফা দাবিতে তারা এ কর্মবিরতি পালন করছেন। তাদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ১০৫ ধারায় জরিমানা পাঁচ লাখ টাকার পরিবর্তে ৫০ হাজার করা, এক জেলার গাড়ি অন্য জেলায় রিকুইজিশন না করা এবং সড়ক মহাসড়কে চেকিং এর নামে যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে পুলিশি হয়রানি, কথায় কথায় পুলিশ কর্তৃক রং পার্কিং-এর নামে হয়রানি, রেকারিং-এর নামে পুলিশের চাঁদাবাজি ও সেতুতে টোল আদায় বন্ধ করা।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. জেদান আল মুসা জানান, পরিবহন শ্রমিকদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়। পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে সকালে হবিগঞ্জ টার্মিনালে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পড়েন।
হবিগঞ্জের অন্য এক যাত্রী মো. আলী হায়দার মিয়া বলেন, সিলেট যাব, কিন্তু বাস টার্মিনালে এসে দেখি কোন ধরণের যানবাহন চলাচল করেছে না। এখন কি করে যাব বুঝতে পারছি না। বিকল্প কোন পরিবহনও পাওয়া যাচ্ছে না।
সুনামগঞ্জে:একই দাবিতে সিলেট বিভাগে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির আহ্বানে কর্মবিরতি অংশ হিসাবে সুনামগঞ্জেও যানবাহন চলাচল বন্ধ রেখেছেন শ্রমিকরা। সিলেট, সুনামগঞ্জ, ছাতক, জগন্নাথপুর, দিরাই, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর বিশ্বম্ভরপুর ও দোয়ারাবাজারসহ ১০টি রুটে বাস-মিনিবাসসহ সব ধরনের চার চাকার পরিবহণ চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে সকাল থেকে সুনামগঞ্জ থেকে দূরপাল্লার কোন বাস ছেড়ে যায়নি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. সাহার উদ্দিন জানান, সংগঠনের বিভাগীয় কমিটির আহ্বানে এই কর্মবিরতি চলছে। সাত দফা দাবি আদায়ের জন্য কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করছে শ্রমিকরা। দাবি মানা না হলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডাকা হবে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ জানান, বাস টার্মিনালের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। দূরপাল্লার কোনও বাস টার্মিনাল ছেড়ে যায়নি। এখন পর্যন্ত কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।’
হবিগঞ্জ:জেলার সকল অভ্যন্তরীণ সড়কে কোন ধরণের যানবাহন চলাচল করেনি। সিলেট বিভাগ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া পরিবহন ধর্মঘট চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এদিকে সকাল থেকে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকার কারণে বিপাকে পড়েন যাত্রীরা। বিশেষ করে চাকরিজীবী যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
