বেনজীরের ৫ম মৃত্যু বার্ষিকী পালন

বিলাওয়াল সরাসরি রাজনীতিতে আসলেন

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩৬
পাকিস্তানে গণতন্ত্র রক্ষায় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার প্রতিজ্ঞা করে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে আসলেন দেশটির প্রয়াত প্রেসিডেন্ট বেনজির ভুট্টো এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টো। মায়ের ৫ম মৃত্যবার্ষিকীতে গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি রাজনীতিতে আসার এ ঘোষণা দিলেন। খবর বিবিসি ও এনডিটিভির। রাজনৈতিক জীবনে গতকাল ছিল বিলাওয়াল ভুট্টোর প্রধান রাজনৈতিক বক্তব্য এবং এটি দেশটির টেলিভিশন ও রেডিওতে সরাসরি সমপ্রচারিত হয়। বক্তব্যে তিনি পাকিস্তানের রাজনীতিতে তার পরিবারের অবদানের কথা তুলে ধরেন। বিলাওয়াল তার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, তিনি গণতন্ত্রের জন্য জীবন উত্সর্গ করবেন। তার মা বেনজির ভুট্টো ২০০৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর এক নির্বাচনী প্রচারিভিযানের সময় আত্মঘাতী হামলায় নিহত হন। দীর্ঘ ৫ বছর অতিবাহিত হলেও এ ঘটনায় প্রকৃত সত্য এখনো আলোর মুখ দেখেনি। বিলাওয়াল পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলের সিন্ধু প্রদেশের ঘোরি খোদা বকসের পারিবারিক সমাধিতে বিলাওয়াল তার মায়ের কবরে শ্রদ্ধা জানান। জনগণকে ক্ষমতার উত্স উল্লেখ বেনজির তনয় বলেন, গণতন্ত্রের বাতিঘর সবসময় দেশকে আলোকিত করে। শান্তিপূর্ণ এবং একটি গণতান্ত্রিক পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় তার দল জঙ্গিবাদ এবং চরমপন্থিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যাবে। সমাবেশে প্রায় দুই লক্ষাধিক লোকের সমাবেশ ঘটে। অক্সফোর্ড গ্রাজুয়েট বিলাওয়াল (২৪) তার মায়ের মৃত্যুর জন্য তালেবান জঙ্গিদের দায়ী করে আসছেন। পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী ২৫ বছর পূর্ণ হলে কোনো ব্যক্তি সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। আগামী সেপ্টেম্বরে তার ২৫ বছর পূর্ণ হবে। এর আগেই দেশটির সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে তিনি নির্বাচনে দাঁড়াতে না পারলেও নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। বিলাওয়াল বলেন, অনেক ভুট্টো হয়তো মারা যায়, কিন্তু আরো ভুট্টো আবার জন্মও নেবে। দেশটির জনগনের খাদ্য, বস্ত্র এবং বাসস্থানের চাহিদাকে তার দলের মূল অগ্রাধিকার উল্লেখ করে বিলাওয়াল বলেন, যদিও বর্তমান পিপিপি সরকার সন্ত্রাসী এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন তারপরও দেশটি নিজস্ব অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। প্রেসিডেন্ট জারদারি তার ভাষণে বলেন, আগামী বছরে অনুষ্ঠিতব্য সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং এটি স্থগিত করাও হবে না।