জেএসসি ও জেডিসি

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩৬
জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ফল গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে। তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত জেএসসি (অষ্টম শ্রেণী) পরীক্ষায় আটটি বোর্ডে গড় পাসের হার ৮৬ দশমিক ১১ শতাংশ। মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত জেডিসি পরীক্ষায় পাসের হার ৯০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। সার্বিক পাসের হার ৮৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ। গতবারের চেয়ে এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ উভয়ই বেড়েছে। গতবারের চেয়ে জেএসসি পরীক্ষায় পাসের হার বেড়েছে ৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং জেডিসিতে ২ দশমিক ১৭ শতাংশ। গতবার জেএসসিতে পাসের হার ছিল ৮২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। জেডিসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৮৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। এবার জেএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৬ হাজার ৯৮২ জন । গতবারের চেয়ে এ সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। গতবার জেএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৯ হাজার ৮৩৮ জন। এবার জেডিসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৭৮৪ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৪ জন। ২০১০ সালে এ সংখ্যা ছিল ৫০৪ জন। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এ ফলাফলের কপি হস্তান্তর করেন। পরে বেলা ১২টায় সংবাদ সম্মেলন করে এবারের ফল সম্পর্কে বিস্তারিত জানান তিনি। এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষাবোর্ড, শিক্ষা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গতবারের তুলনায় এবার শিক্ষার সব সূচকে অগ্রগতি হয়েছে। সব মিলিয়ে এবারের জেএসসি-জেডিসির ফলাফল আশাব্যঞ্জক। তিনি বলেন, এ বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। বেড়েছে পাসের হার। একই সঙ্গে বেড়েছে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার। অন্যদিকে অনুত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কমেছে। অনেক খারাপ ছাত্র ভালো করেছে। পাশাপাশি গতবারের চেয়ে পাস করেনি এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যাও কমেছে। সব মিলিয়ে সব সূচকেই অগ্রগতি হয়েছে। এবার বরিশাল বোর্ডে ৯৩ দশমিক ৮২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, যা আট বোর্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এবার ঢাকা বোর্ডে ৮৫ দশমিক ০২ শতাংশ, রাজশাহীতে ৮৫ দশমিক ০৯ শতাংশ, কুমিল্লায় ৯১ দশমিক ৮৬ শতাংশ, যশোরে ৮৫ দশমিক ২৮ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৭৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ, সিলেটে ৯০ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং দিনাজপুর বোর্ডে ৮৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যার দিক দিয়ে আট বোর্ডে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ঢাকা। এ বোর্ডের ১৭ হাজার ৫৯৫ জন ছাত্র-ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে এবার। এছাড়া রাজশাহী বোর্ডে ৬ হাজার ২২১ জন, কুমিল্লায় ৩ হাজার ৭৬৩ জন, যশোরে ৩ হাজার ৯৭৮ জন, চট্টগ্রামে ৩ হাজার ৫৩১ জন, বরিশালে ৩ হাজার ১৭২ জন, সিলেটে ১ হাজার ৩৬৪ জন এবং দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে ৪ হাজার ৫৩৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে । এবার মোট ১৮ লাখ ৪১ হাজার ৭২৬ জন পরীক্ষার্থী অষ্টম শ্রেণী সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। যাদের মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৮ লাখ ৬৮ হাজার ৭৯০ এবং ছাত্রী ৯ লাখ ৭২ হাজার ৯৩৬ জন। উত্তীর্ণ ১৬ লাখ ১ হাজার ৭৫০ জনের মধ্যে ছাত্র ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৬৩২ জন আর ৮ লাখ ৩৭ হাজার ১১৮ জন ছাত্রী। কেউ পাস করেনি এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা জেএসসিতে ৫৫ ও জেডিসিতে ৩০টি। শতভাগ পাস করেছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা জেএসসিতে ২ হাজার ৭৯৭ এবং জেডিসিতে ২ হাজার ১০২টি। ঢাকা বোর্ড : এই বোর্ডে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ছিল ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৫১৫ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ৪ লাখ ৩ হাজার ৪২১ জন। পাসের হার শতকরা ৮৫ দশমিক ০২ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭ হাজার ৫৯৫ জন। দেশের সকল বোর্ডের মধ্যে ঢাকা বোর্ডে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংখ্যা বরাবরের মতো এবারও বেশি। এই বোর্ডে প্রথম হয়েছে রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল এন্ড কলেজ। দ্বিতীয় ভিকারুননিসা ও তৃতীয় ময়মনসিংহ জিলা স্কুল। রাজশাহী বোর্ড : এই বোর্ডে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৪ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮৬৫ জন। পাসের হার শতকরা ৮৫ দশমিক ০৯ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৬২১ জন। এই বোর্ডে প্রথম হয়েছে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ। কুমিল্লা বোর্ড : এই শিক্ষাবোর্ডের পাসের হার ৯১ দশমিক ৮৬ ভাগ। এ বছর এই বোর্ডে অংশ নেয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮৬ হাজার ৫০১ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৩২৮ জন শিক্ষার্থী। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৬৩ জন। এই বোর্ডে প্রথম হয়েছে ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ। যশোর বোর্ড : এই বোর্ডে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৮১ হাজার ৯৫ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪৪১ জন। পাসের হার শতকরা ৮৫ দশমিক ২৮ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৯৮৭ জন। এই বোর্ডে প্রথম হয়েছে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ। চট্টগ্রাম বোর্ড : এই বোর্ডে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪৭২ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৭৮ জন। পাসের হার শতকরা ৭৮ দশমিক ৩৫ ভাগ। মোট পাস করা পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৫৩১ জন। এ বোর্ডে প্রথম হয়েছে খাসতোগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। বরিশাল বোর্ড : এ বোর্ডে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ছিল ৮২ হাজার ১৮২ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ৭৭ হাজার ১০১ জন। পাসের হার ৯৩ দশমিক ৮২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ১৭২ জন। প্রথম স্থানে রয়েছে বরিশাল ক্যাডেট কলেজ। সিলেট বোর্ড : এই বোর্ডে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ছিল ৯০ হাজার ৬শ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ৮১ হাজার ৯৪৯ জন। পাসের হার শতকরা ৯০ দশমিক ৪৫ ভাগ। মোট পাস করা পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৩৬৪ জন। এই বোর্ডে প্রথম হয়েছে সিলেট ক্যাডেট কলেজ। দিনাজপুর বোর্ড : এই বোর্ডে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৮৬ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫০৫ জন। পাসের হার শতকরা ৮৪ দশমিক ৮৮ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৫৩৪ জন। এই বোর্ডে প্রথম হয়েছে রংপুর ক্যাডেট কলেজ।