পুলিশ পাহারায় পরাগ মণ্ডল

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩৭
কেরানীগঞ্জের স্কুল ছাত্র শিশু পরাগ মণ্ডলের দিন কাটছে পুলিশ পাহারায়। আর অজানা আশঙ্কায় রয়েছেন গোটা মণ্ডল পরিবার। বন্ধ রয়েছে পরাগের স্কুলে যাওয়া। অপহরণকারীদের গুলিতে আহত পরাগের মা লিপি মণ্ডল এখনও সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। এদিকে মামলার চার্জশিট কবে দিতে পারবেন সঠিক করে জানাতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তা। পরাগের বাবা বিমল মণ্ডল গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, নিরাপত্তার কথা ভেবে পরাগের স্কুলে যাওয়া আপাতত বন্ধ রেখেছি। আগামী ৪ জানুয়ারি স্কুল খুলবে। তবে আশা করছি নতুন বছরে পরাগ স্কুলে যাবে। চিকিত্সক বলেছেন, অপহরণ নিয়ে যাতে পরাগের সঙ্গে কোন আলোচনা না করি। তারপরেও পরাগ মাঝে মাঝে সেই প্রসঙ্গ নিজে থেকেই উত্থাপন করে। বাসায় ২৪ ঘন্টাই পুলিশ পাহারা রয়েছে। পরাগের মা এখনও সুস্থ হতে উঠতে পারেনি। পরাগ সারাক্ষণ মায়ের পাশেই বসে সময় কাটায়। তিনি বলেন, তিন শিফটে তিনজন পুলিশ কনস্টেবল সদ্য পাহারা দিচ্ছে। তবে পরাগ প্রায় জিজ্ঞাসা করে, বাবা বাসায় পুলিশ কেন? কেন তারা আসে। তার এ প্রশ্নের জবাব এরিয়ে চলার চেষ্টা করি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ থানার পরির্দশক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, ব্যালাস্ট্রিক ও কেমিক্যাল রিপোর্ট পাওয়ার পরপরই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে। মামলায় গ্রেফতারকৃত এক মহিলাসহ ১১ জনই কারাগারে রয়েছে। এরা হচ্ছে আমীর হোসেন, তার স্ত্রী বিউটি, যুবলীগ নেতা জুয়েল মোল্লা, জাহিদুল হাসান, আলী ওরফে রিফাত, কালা চান, আলফাজ, রিজভী আহমেদ অনিক, আবুল কাশেম, মামুন হোসেন ও আল আমিন। তাদর মধ্যে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন আমীর হোসেন, মোহাম্মদ আলী ওরফে রিফাত, জাহিদুল হাসান, কালা চান ও আল আমিন। ১১ নভেম্বর সকালে স্কুল যাওয়ার সময় বাসার সামনে থেকে সন্ত্রাসীরা পরাগকে অপহরণ করে। এসময় অপহরণকারীদের গুলিতে আহত হন পরাগের মা লিপি মণ্ডল, বোন পিনাকি মণ্ডল ও গাড়ি চালক। ঘটনার দু’দিন পর ১৩ নভেম্বর রাত সোয়া ১২টার দিকে কেরানীগঞ্জের আঁটিপাড়া বাজার এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় পরাগকে উদ্ধার করা হয়। ঐ দিনই তাকে ভর্তি করা হয় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে। ১০ দিন হাসপাতালে থাকার পর মাকে নিয়ে বাড়ি ফেরে পরাগ।