প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩৭
প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফল গতকাল বৃহস্পতিবার সারাদেশে একযোগে প্রকাশিত হয়েছে। চতুর্থবারের মতো অনুষ্ঠিত এই শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় প্রাথমিকে পাসের হার ৯৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং ইবতেদায়িতে ৯২ দশমিক ৪৫ শতাংশ। দ্বিতীয়বারের মতো জিপিএ ভিত্তিতে এ ফল প্রকাশ করা হলো। আর এ ফলাফলকে প্রাথমিকে স্মরণীয় সাফল্য বলে মনে করছেন অভিভাবক, শিক্ষকরা। গতবারের চেয়ে এবার পাসের হার সামান্য বেড়েছে । গতবার প্রাথমিকে পাসের হার ছিল ৯৭ দশমিক ২৭ এবং ইবতেদায়িতে ৯১ দশমিক ২১ শতাংশ। এবার প্রাথমিকে ২ লাখ ৩০ হাজার জিপিএ-৫ পেয়েছে। গতবার এ সংখ্যা ছিল এক লাখ পাঁচ হাজার ৬৭৩ । এবার ইবতেদায়িতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ২৯০। সরকারি ব্যবস্থাপনায় রস্ক পরিচালিক আনন্দ স্কুলে এবারও পাসের হার কম। তবে এ হার গতবারের চেয়ে বেড়েছে। এ স্কুলে পাসের হার ৮২ দশমিক ২৯ শতাংশ। গতবার এ স্কুলের পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। গতবারের মতো এবারও দেশের সাতটি বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ পাসের হার বরিশালে ৯৯ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন পাসের হার সিলেট বিভাগে ৯৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ। গতকাল বেলা ১১ টায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ডা. আফছারুল আমীন আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফল ঘোষণা করেন। এর আগে সকালে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি পরীক্ষার ফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এবার দেশের ৯২ হাজার ৩২৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৬ লাখ ৪১ হাজার ৯০৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য তালিকাভুক্ত হয়। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২৪ লাখ ৮১ হাজার ১১৯ জন। প্রাথমিকে পাস করে ২১ লাখ ২৫ হাজার ৮৬৯ জন। প্রাথমিকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ২২০ জন। প্রাথমিকে গতবারের মতো এবারও দেশসেরা মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় । নিবন্ধিত ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা, পাসের হার, জিপিএ-৫ পাওয়ার হার এবং অনুপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যার ভিত্তিতে প্রাথমিকে সারাদেশের সেরা ২০টি স্কুলের একটি তালিকা করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এই হিসাবে সেরাদের সেরা মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় পেয়েছে ৬৬ দশমিক শূন্য ৭১৪ পয়েন্ট। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল, এর পরে রয়েছে ভিকারুন নিসা নূন স্কুল। ৬৪ জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ পাসের হারে এবারো এগিয়ে রয়েছে লালমনিরহাট জেলা। ওই জেলায় পাসের হার শতভাগ। যশোর জেলা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। পাসের হার ৯৯ দশমিক ১৭ শতাংশ। ৫০৫ উপজেলা/থানার মধ্যে ৩৯ উপজেলায় শতভাগ পাস করেছে। পাসের দিক দিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা সর্বনিম্ন ( ৯১ দশমিক ৯৮ শতাংশ)। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার পাসের হার সর্বনিম্ন (৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশ)। প্রাথমিকে ১৪ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাসের হারে এগিয়ে আছে পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৯৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ। দ্বিতীয় ব্র্যাক পরিচালিত বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৯৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। পাসের হারে সবচেয়ে নিম্নে রয়েছে রস্ক পরিচালিক আনন্দ স্কুল। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৮২ দশমিক ২৯ শতাংশ। এবার শতভাগ পাস করেছে ৭২ হাজার ২২৭টি । গতবার এ সংখ্যা ছিল ৬৮ হাজার ৬২৯টি। পাশাপাশি শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৭১০টি। গতবার এ সংখ্যা ছিল ৩৭১টি। ঢাকা বিভাগ: ঢাকা বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নেয় মোট ৭ লাখ ৮১ হাজার ৩৮০। গড় পাসের হার ৯৪ দশমিক ২৭ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯০ হাজার ১৫২ জন। চট্টগ্রাম বিভাগ: চট্টগ্র্রাম বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৫ লাখ ৬ হাজার ২ জন। গড় পাসের হার ৯৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৪ হাজার ৩৪ জন। রাজশাহী বিভাগ : রাজশাহী বিভাগে অংশ নেয় ৩ লাখ ১৪ হাজার ২৮৫ জন। গড় পাসের হার ৯৭ দশমিক ০৬ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩০ হাজার ৮১৩। জিপিএ ৪ থেকে ৫-এর মধ্যে ৮৪ হাজার ৩১০, জিপিএ ৩ দশমিক ৫ থেকে ৪-এর মধ্যে ৫২ হাজার ৮৩, জিপিএ ৩ থেকে ৩ দশমিক ৫-এর মধ্যে ৪৮ হাজার ৮৩৬, জিপিএ ২ থকে ৩-এর মধ্যে ৬৬ হাজার ৫৩২, জিপিএ ১ থেকে ২-এর মধ্যে ২২ হাজার ৪৬২ জন। খুলনা বিভাগ: খুলনা বিভাগে অংশ নেয় ২ লাখ ৬৭ হাজার ১৭৪ জন। গড় পাসের হার ৯৮ দশমিক ৫৪ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৮ হজার ৯৬৬ জন। বরিশাল বিভাগ : বরিশাল বিভাগে মোট অংশ নেয় এক লাখ ৪৫ হাজার ৫৯৭ জন। গড় পাসের হার ৯৯ দশমিক ১৯ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ২৯০ জন। সিলেট বিভাগ : সিলেট বিভাগে মোট অংশ নেয় এক লাখ ৭৬ হাজার ১৩৫ জন। গড় পাসের হার ৯৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ হাজার ৪৫৬ জন। রংপুর বিভাগ: রংপুর বিভাগে মোট অংশ নেয় ২ লাখ ৯০ হাজার ৫৪৬ জন। গড় পাসের হার ৯৮ দশমিক ১৪ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯ হাজার ৫০৯ জন। বছরভিত্তিক পাসের হার ২০০৯ সালে ৮৮.৮৪; ২০১০ সালে ৯২.৩৪; ২০১১ সালে ৯৭.২৬ এবং ২০১২ সালে ৯৭.৩৫।