চলতি মৌসুমে সিলেট অঞ্চলে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে কি না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। একদিকে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মণের ফলে জলাবদ্ধতা, হাওর রক্ষা বাঁধ নিয়ে ‘কমিশন বাণিজ্য’ সর্বেপরি উত্পাদিত ধানের বাজার মূল্য কম থাকায় ধীরে ধীরে এই অঞ্চলের চাষিরা আগ্রহ হারাচ্ছেন ধান চাষে। এ বছর আমন মৌসুমে সিলেটে বাম্পার ফলন হয়েছে। গোলা ভর্তি ধান; কিন্তু কৃষকের মুখে হাসি নেই। কারণ বাজারে প্রতি মণ ধানের মূল্য ৪শ থেকে সাড়ে ৪শ টাকা। আগের দুই বছরও ধানের মূল্য প্রায় একই ছিল। তারা জানান, গত কয়েক মৌসুম থেকে কৃষক ধান বিক্রি করে উত্পাদন খরচ উঠাতে পারছে না। তাই তারা ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। অনেকেই ধান ছেড়ে সবজি চাষের দিকে ঝুঁকেছে— এই মন্তব্য করে বিশ্বম্ভরপুরের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, বোরো চাষিদের যত বিপদ, বোরো জমিতে বোরো ধান ছাড়া অন্য কিছু করার সুযোগও নেই। তাই তারা বিপদে আছেন বলে জানান।
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মরাগাংগের উপর একটি অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের ফলে দেখার হাওরের একটি অংশে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বাঁধটি নির্মাণ করা হয়েছে এলাকার একটি জলমহালের মাছ ধরার জন্য; কিন্তু এখনি বাঁধ কেটে পানি অপসারণ না করা হলে সেখানে বোরো চাষ সম্ভব হবে না। ফলে ৪ হাজার হেক্টর জমির বোরো চাষ অনিশ্চিত। এ জমির উপর ৫ গ্রামের অন্তত ৪ হাজার কৃষক নির্ভরশীল। এলাকার কৃষক ফজলুল করিম, আকবর আলী ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহিদ জানান, এখানে একটি পাইপ স্লুইস গেট নির্মাণ জরুরি।
অন্যদিকে সুনামগঞ্জ জেলার ৪৫টি হাওর আগাম বন্যা থেকে রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডেকে ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এজন্য ২৫০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠনের কথা; কিন্তু পিআইসি গঠনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে হাওর রক্ষার বিষয়টি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এখনো বেশির ভাগ স্থানে হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো এমপির প্রতিনিধিদের ‘খুুশি’ না করলে পিআইসি গঠন করা যাচ্ছে না।
