স্বাধীনতা যুদ্ধে যে ৩ ব্যক্তি দাউদকান্দির মুজিববাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তারা কেউই মূল্যায়িত হননি। অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র আব্দুল মতিন গৌরীপুর সুবল-আফতাব উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৫ সালে এসএসসিতে কুমিল্লা বোর্ডে মেধাতালিকায় এবং ১৯৬৭ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসিতে ঢাকা বোর্ডের মেধা তালিকায় স্থান লাভ করে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেন এবং দাউদকান্দি থানা কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে রাশিয়ায় লেখাপড়া করে পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ার হন। আব্দুল মতিন রাশিয়ায় মৃত্যুবরণ করলে তাঁকে হোমনা-গৌরীপুর সড়কের পার্শ্বে নিজ গ্রাম বর্তমান তিতাস উপজেলার বন্ধরামপুরে সমাহিত করা হয়। আজ পর্যন্ত এই মহান দেশপ্রেমিকের নামে কোন প্রতিষ্ঠান, এমনকি একটি রাস্তারও নামকরণ হয়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র শেখ ফজলুুল হক মনির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন দাউদকান্দি মুজিববাহিনী প্রধান সুন্দলপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম স্বাধীনতা যুদ্ধচলাকালে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় রাজাকারদের হাতে ধরা পড়লে দীর্ঘদিন নির্যাতনের পর ২১ নভেম্বর পাকসেনারা তাঁকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে। হাসানপুর শহীদ নজরুল কলেজ ছাড়া অদ্যাবধি এই মহান মুক্তিযোদ্ধার নামে তেমন কিছুই করা হয়নি। শহীদ নজরুলের মা-বাবা দু’জনই পুত্রশোক নিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় হয়েছেন। শহীদ নজরুলের ছোট বোন কামরুন্নাহার বতুল আক্ষেপ করে বলেন- এদেশে কত অখ্যাত ব্যক্তিদের নামে অনেক প্রতিষ্ঠান এবং রাস্তাঘাটের নামকরণ করা হচ্ছে। অথচ তার ভাইয়ের নামে তেমন কিছুই করা হয়নি। শহীদ নজরুলের মৃত্যুর পর দাউদকান্দি থানা মুজিববাহিনী প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন বর্তমানে সাপ্তাহিক বাংলাবার্তা সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২ বার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেও এই নিবেদিত মুক্তিযোদ্ধার কোনপ্রকার মূল্যায়ন করা হয়নি।
