যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক ড. সুগত বসু বলেছেন, ভারত বা বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষই ধর্মভীরু, কিন্তু তারা ধর্মান্ধ নয়। তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সুন্দর ভারত বা বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িকতা সবসময় জাতীয়তাবাদের বিপরীত নয়। আজকে আমাদের সতর্ক হওয়া দরকার যে, সাম্প্রদায়িকতা নয়, মেজরিটারিয়ান (সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ) ভারতে ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে হয়তো (বাংলাদেশে) সেই ধরনের মেজরিটারিয়ান মনোভাব কারো কারো মধ্যে থাকতে পারে।
গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় যাদুঘর মিলনায়তনে প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ স্মারক বক্তৃতা-২০১২ অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের প্রশ্নের জবাবে ড. বসু এ কথা বলেন। ড. সুগত বসু বলেনঃ ভেবে দেখুন ধর্মের ভিত্তিতে আমাদের দেশ ভাগ হয়েছিলো। কিন্তু আজও এখানে (বাংলাদেশ) হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান অনেকে বসবাস করেন। পশ্চিম বাংলার দিকে তাকালে দেখতে পাব সেখানে শতকরা ২৭ ভাগ মুসলিমের বসবাস। তাই শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই নয় সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে দুই বাংলার মধ্যে আরো নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, ঢাকা-দিল্লির মতো দুই বাংলার মধ্যে কথোপকথন (ডায়ালগ) বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আরো সুসম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব হয়। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) বা আসিয়ানের মত সমগ্র ভারত উপমহাদেশকে এশিয়ান ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলা গেলে তা সকলের জন্য ভালো হবে।
এর আগে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু ও হিন্দু-মুসলমান সম্পর্ক শীর্ষক স্মারক বক্তৃতা দেন সুগত বসু। তিনি সুভাষ চন্দ্র বসুর নাতি। এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশের সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন এ স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করে। ট্রাষ্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটি ফর ল এন্ড হিউম্যান রাইট্স-এর আহবায়ক অধ্যাপক একেএম গোলাম রাব্বানী স্বাগত বক্তব্য এবং কমিটির চেয়ারপার্সন অধ্যাপক আকমল হোসেন সমাপনী বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার এম আমীর-উল-ইসলাম, অর্থনীতিবিদ ড. রেহমান সোবহান, এটর্নি জেনারেল এডভোকেট মাহবুবে আলম, ব্যারিস্টার ইশতিয়াক আহমেদের সহধর্মিণী জাতীয় অধ্যাপক সুফিয়া আহমেদ ও তাদের পুত্র হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
স্মারক বক্তৃতায় ড. সুগত বসু বলেন, হিন্দু সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দের বাণীতে দীক্ষিত হয়ে প্রথম জীবনে সুভাষ চন্দ্র দরিদ্র মানুষের জন্য সেবার ধর্মে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। রাজনৈতিক গুরু মেনেছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসকে। নেতাজীর সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ছিলো সব ধর্মের সব জাতের মানুষকে এক পতাকাতলে নিয়ে আসতে পারা। সংকীর্ণ সাম্প্রদায়িকতার উর্ধ্বে উঠে তাদের মধ্যে এক অভিন্নতাবোধ জাগ্রত করা।
