যুক্তরাষ্ট্র, কানাডায় ঝড় তুষারপাত, ভারতে শীতে যোগাযোগ বিপর্যস্ত

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২৮
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ঝড় ও তুষারপাতে ও ভারতের উত্তরাঞ্চলে তীব্র শীতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ জন এবং ভারতের উত্তরাঞ্চলে তীব্র শীতে মারা গেছে ৪০ জন। এর মধ্যে উত্তর প্রদেশেই মারা গেছে ১৩ জন। এছাড়া কানাডার বিভিন্ন অঞ্চলে তুষারপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও এএফপির। যুক্তরাষ্ট্রে নিহতদের বেশিরভাগই নিউ ইংল্যান্ডের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার ৭৪৬টি ফ্লাইটসহ বড়দিনের পর থেকে এ পর্যন্ত ৩ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে সংকটে পড়েছে ভ্রমণকারীরা। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে যানবাহনের চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে দেশটির বিভিন্ন সড়কে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঝড়ে উপড়ে যাওয়া গাছের চাপায় টেক্সাস ও লুইজিয়ানায় দুইজন মারা গেছে। নিউইয়র্কে বরফ-ঢাকা রাস্তার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে একটি গাড়ি এক পথচারীকে চাপা দিলে তার মৃত্যু হয়। ওহাইওতে এক কিশোর গাড়ি চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় মারা যায়। দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ওপর দিয়ে শীতকালীন ঘূর্ণিঝড়টি মধ্যাঞ্চলের দিকে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিউ ইংল্যান্ডে ভারী তুষারপাত হয়। এতে ওই অঞ্চলে অধিকাংশ এলাকা এক ফুটেরও বেশি পুরু বরফের স্তরের নিচে চাপা পড়ে। এছাড়া বৃহস্পতিবার ভারমন্ট, নিউ হ্যাম্পশায়ার, পেনসিলভানিয়াসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ১২ থেকে ১৮ ইঞ্চি পুরু বরফের স্তর জমে। বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তারের ওপর তুষার জমে থাকায় আরকানসাস ও আলাবামার কয়েক হাজার মানুষ বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কানাডার রাজধানী মন্ট্রিলে বৃহস্পতিবার ৪৩ সেন্টিমিটারের মতো বরফ জমে। এর আগে ১৯৬৯ সালে ৩৭ দশমিক সেন্টিমিটার বরফ জমে। কর্মকর্তারা বলছেন, বরফের স্তূপ সরাতে কমপক্ষে চারদিন সময় লাগবে। দেশটির আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ কুউবেকে ৫০ সেন্টিমিটারের মতো বরফ জমে। অন্টারিওতে শীতকালীন ঝড়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে নোভা স্কটিয়াতে ১০০ কিলোমিটার বেগে ঘূর্ণিঝড় বয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, রাস্তায় বরফ জমার কারণে টরেন্টোতে কয়েক ডজন গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটেছে। মন্ট্রিল বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ১৩৪টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। দেশটির সবচেয়ে ব্যস্ততম বিমানবন্দর ‘পিয়ারসন’ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ১৬৬টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। আবার কোনো ফ্লাইট দেরিতে ছেড়েছে। ভারতে তীব্র শীতে এ পর্যন্ত ৪০ জন মারা গেছে। সেদেশের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, ভারতের উত্তরাঞ্চলের বিরাট অংশ ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে। এতে সড়ক, রেল ও বিমান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ঘন কুয়াশার কারণে গত বুধবার হরিয়ানায় সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে চারদিন ধরে চন্ডিগড় থেকে বিমানের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার লক্ষ্মৌতে দুটি ফ্লাইট বন্ধ করা হয়। পুলিশ জানায়, তীব্র শীতে বারাবাঙ্কিতে তিনজন, বিজনর, সুলতানপুর ও চান্দৌলিতে দুজন করে, গাজীপুর, ভাগপাত, বান্দা ও সোনেভাদরাতে একজন করে মারা গেছে। শীতার্তদের জন্য সরকারি ত্রাণ অপ্রতুল বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকার শীতার্তদের জন্য কম্বল ও গৃহহীনদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থা করলেও কয়েক লাখ মানুষ এখনো খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে। এ কারণে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে।