আদালতের জামিনে কারাগার থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে দুর্ধর্ষ ও দাগী সন্ত্রাসীরা। মুক্তি পাওয়ার পরপরই দল গোছানোর কাজ শুরু করেছে ঐসব সন্ত্রাসীরা। ইতোমধ্যে চাঁদার দাবিতে ব্যবসায়ীদের হত্যার হুমকিও দিয়েছে। প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে এক ব্যবসায়ীকে। ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার ও কাশিমপুর কারাগার-২ এর বাইরেও অন্যান্য কারাগার থেকে জামিনে দাগী সন্ত্রাসীরা মুক্তি পাচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের বহুল আলোচিত পুলিশ শাহীন ও কানা জসিমের সহযোগী রাজু জামিনে মুক্তি পেয়েছে। পুলিশ শাহীন বেরিয়েছে নরসিংদী কারাগার থেকে। অন্যদিকে রাজু ঢাকার কারাগার থেকে বরিশাল জেলা কারাগারে স্থানান্তরের কয়েকদিন পরেই সেখান থেকে জামিনে বেরিয়ে যায়। এসব ব্যাপারে কারা অধিদফতরের মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. আশরাফুল ইসলাম খান বলেন, আদালতের জামিনের আদেশ নিয়ে বিধি মোতাবেক আসামিদের জামিন দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, র্যাবের গোয়েন্দা ইউনিটের পরিচালক লে.কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, কারাগারগুলোতে শীর্ষ সন্ত্রাসী বা জঙ্গি নেতাদের জামিনে মুক্তির আদেশ এলে র্যাব বা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে জামিন সংক্রান্ত তথ্য দেয়া হচ্ছে না। এ কারণেই কারাগারগুলো থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী অথবা দাগী সন্ত্রাসী জামিনে বেরিয়ে যাচ্ছে।
গত ১৩ ডিসেম্বর কাশিমপুর কারাগার-২ থেকে জামিনে মুক্তি পায় শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশ কুমার বিশ্বাস। এর সপ্তাহখানেক আগে কারাগার থেকে জামিন নিয়ে পালিয়েছে পুরান ঢাকার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও ক্রসফায়ারে নিহত ডাকাত শহীদের অন্যতম সহযোগী ভাগ্নে ফারুক ও তার বড় ভাই ফিরোজ। তারা দুটি অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গিয়েছিল। জামিনে মুক্তি পেয়ে পালিয়ে যায় নিহত ডাকাত শহীদের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড সাজু। তাদের আগেই কারাগার থেকে জামিন নিয়ে পালিয়ে গেছে বংশাল ও কোতয়ালী থানার তালিকাভূক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মান্নান ওরফে সোর্স মান্নান। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে কাশিমপুর কারাগার থেকে বেরিয়েছে সূত্রাপুর থানার তালিকাভূক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ফয়সাল বাবু। এর আগে মিরপুরের সন্ত্রাসী ব্যাঙ্গা বাবু ও গাজী সুমন একই কায়দায় জামিনে ছাড়া পেয়ে ফোনে চাঁদাবাজি শুরু করেছে। সূত্রমতে, মহাখালীর শীর্ষ সন্ত্রাসী আক্তার, নাফতা হানিফ ও লুচ্চা মামুন কঠোর গোপনীয়তা অবলম্বন করে জামিন নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। গত দুই মাস আগে কারাগার থেকে বেরিয়েছে মিন্টু ওরফে টুপি মিন্টু। প্রায় তিন মাস আগে বাইরে বেরিয়েছে দাগী সন্ত্রাসী শাহিন ওরফে পুলিশ শাহীন। তার বিরুদ্ধে রাজধানী ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন থানায় অন্ততপক্ষে ১৫টি মামলা রয়েছে। পুলিশ শাহীন গ্রুপের আরেক সন্ত্রাসী মজিবরও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে গেছে। জামিনে মুক্তি পেয়েছেন শীর্ষ সন্ত্রাসী রোজেন গ্রুপের সেকেন্ড-ইন কমান্ড কানা জসিমের সহযোগী রাজু। সে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার ফরিদ হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। মুক্তি পাওয়া সন্ত্রাসীদের তালিকায় আরও রয়েছে— টি এন্ড টি কলোনির শাওন। তার সহযোগী হাকিম। সমপ্রতি দু’জনেই কারাগার থেকে জামিন নিয়ে পালিয়ে গেছে।
মাস খানেক আগে জামিনে মুক্তি পেয়েছে যাত্রাবাড়ী এলাকার দুর্ধর্ষ কিলার গ্রুপ সালাউদ্দিনের অন্যতম সহযোগী আলী। জেল থেকে বেরিয়েই গত ২৩ ডিসেম্বর যাত্রাবাড়ি বৌবাজার ব্যবসায়ী সমিতির ম্যানেজার রফিকুল ইসলামকে এই সন্ত্রাসী গুলি করে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ।
সূত্র আরও জানায়, ধোলাইখালের দুর্ধর্ষ শ্যুটার ছোট হান্নু সমপ্রতি অভিনব কৌশলে কারাগার থেকে বেরিয়ে গেছে। জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীদের তালিকায় আরও আছে ছিনতাইকারী গ্রুপের আরেক গডফাদার রমজান। শুধু তাই নয়, তার দুর্ধর্ষ সহযোগী সুমন কয়েক দিনের ব্যবধানে জামিনে মুক্ত হয়েছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছে মোটর সাইকেল ছিনতাই গ্রুপের সদস্য ল্যাংড়া ইকবাল।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কারা অধিদফতরের মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. আশরাফুল ইসলাম খান বলেন, আদালত থেকে জামিনের আদেশ আসার পর আমাদের কিছুই করার থাকে না। কারা দাগী সন্ত্রাসী তাদের শনাক্ত করে মনিটরিং করার দায়িত্ব পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার।
