সিলেটে বিমান যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২৯
ঘন ঘন ফ্লাইট বিড়ম্বনায় প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের বিমান যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন গন্তব্যের শত শত যাত্রী প্রতিনিয়ত বিমানের ফ্লাইট বিড়ম্বনায় পড়ছেন। সময়মতো ফ্লাইট না যাওয়া এবং প্রায়শই ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটছে। গতকাল শুক্রবারও বিমানের একটি নির্ধারিত ফ্লাইট আকস্মিক বাতিল হওয়ায় আটকা পড়েন লন্ডনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যের প্রায় ৪শ’ যাত্রী। আর এ কারণে এই যাত্রী ও তাদের আত্মীয়-স্বজনরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন। ক্ষুব্ধ যাত্রীরা পরে বিমানের সিলেট অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। তাদের শান্ত করতে হিমশিম খান বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আটকে পড়া যাত্রীদের আজ শনিবার সকালে ফ্লাইট দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে বিমান। ক্ষুব্ধ যাত্রীরা জানিয়েছেন, এই প্রচণ্ড শীতের মধ্যে তাদের অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে মহিলা-শিশুসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছেন আপনজনদের বিদায় জানাতে। কিন্তু ফ্লাইট না যাওয়ায় এখন হয় তাদের বাড়ি ফিরে যেতে হবে, অন্যথায় হোটেল ভাড়া করে থাকতে হবে। এছাড়া অনেকের বিদেশের কর্মস্থলের ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়াসহ নানা জটিলতাও রয়েছে। তারা সময়মতো কর্মস্থলে হাজির হতে না পারায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখোমুখি হবেন। আকস্মিক ফ্লাইট বাতিল হওয়া প্রসঙ্গে বিমানের সিলেট এয়ারপোর্ট ম্যানেজার জিল্লুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, জেদ্দা থেকে বিমানের একটি ফ্লাইট ঢাকা হয়ে সিলেটে আসার কথা ছিল। এই উড়োজাহাজটিই সিলেটের যাত্রীদের নিয়ে শুক্রবার বিকাল ২টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ফ্লাইটটি না আসায় ফিরতি ফ্লাইটও বাতিল হয়েছে। তাই এখানে তাদের কিছু করার নেই। তিনি আরো জানান, যাত্রীদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে তাদের ফ্লাইট দেয়া হবে। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় কিছু যাত্রী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন বলেও তিনি স্বীকার করেন। ভুক্তভোগী যাত্রী ও সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেন, বিমানের যাত্রীসেবার মান দিন দিন কমছেই। টিকিট করা থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রেই বিমানের যাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সিলেট-ঢাকা রুটে বিমানের বিপুলসংখ্যক যাত্রী থাকার পরও নানা অজুহাতে প্রায়ই সিলেট থেকে লন্ডনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে প্রায়ই বিমানের সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়া হয়। আভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইটেও বিড়ম্বনার শেষ নেই। একারণে অনেক যাত্রী বিমান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। গত সোমবারও সিলেট থেকে আকস্মিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিমানের ১৪০ জন যাত্রী আটকা পড়েন। চরম ভোগান্তির একটি দিন পার করার পরদিন তাদেরকে ফ্লাইট দেয়া হয়। একইভাবে গতকাল শুক্রবার বিমানের ফ্লাইটে সিলেট থেকে লন্ডনগামী ২৯৬ জন, কাতার ও দুবাইগামী ২৭ জন, সৌদি আরবগামী ৩২ জনসহ প্রায় ৪শ’ যাত্রী যাওয়ার কথা ছিল। সময়মতো তারা ওসমানী বিমানবন্দরে গিয়ে হাজিরও হন। কিন্তু বিমানবন্দরে গিয়ে জানতে পারেন তাদের ফ্লাইট যাবে না। ওই ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন যাত্রীরা। তারা বিমানের সংশ্লিষ্টদের কাছে এব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চাইলেও কাউকে খুঁজে পাননি। পরে কয়েক শ’ যাত্রী বিমান অফিসে গিয়ে চড়াও হন। তারা সেখানে বিক্ষোভ-মিছিল করেন। বিমানের কর্মকর্তারা তাদেরকে আজ শনিবার ফ্লাইট দেয়ার কথা বলে বিদায় করে দেন। বিমানের জেদ্দাগামী যাত্রী ফেরদৌস জানান, তিনি নিজের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার থেকে তার আত্মীয়-স্বজনকে সাথে নিয়ে বিমান বন্দরে এসে ফ্লাইট বাতিলের কথা জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, ফ্লাইট বাতিলের কারণে কী ক্ষতি ও কষ্টের মুখোমুখি হয়েছি তা কাউকে বলে বুঝানো যাবে না। তিনি প্রবাসীদের এই দুঃখ-কষ্টের ব্যাপারে সরকারকে একটু মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।