ইত্তেফাক ডেস্ক
গত বেশ ক’দিন ধরেই সারাদেশে বয়ে যাচ্ছে তীব্র দাবদাহ। আর এতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। এ ছাড়া, গরমে বিভিন্ন স্থানে ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। অনেক স্থানে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবরঃ
রাজশাহী: রাজশাহীতে সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ দিন রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন রবিবার চলতি মৌসুমে রাজশাহী অঞ্চলেই দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। এদিকে তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভ্যাপসা গরমে রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি আরো বেড়েছে।
খুলনা: খুলনায় নেই ঠান্ডা বাতাস, নেই বৃষ্টি, ঘরের বৈদ্যুতিক পাখার বাতাসও গরম। বাইরের অবস্থা আরো ভয়াবহ। তীব্র খরতাপ, আর গরমে শ্রমজীবী মানুষদের ত্রাহি অবস্থা। স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, তীব্র গরম আরো দু’তিনদিন অব্যাহত থাকবে।
নগরীর শেখপাড়ার রিকশাচালক বাবুল মিয়া বলেন, স্যার, এই রহম গরমে আর রিকশা চালাইতে মন চায় না।
এদিকে নগরীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিক ঘুরে দেখা গেছে, দুর্বিষহ গরমে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে পেটের পীড়াসহ নানা অসুখে। চিকিত্সা সেবা নিতে আসা অধিকাংশই হিট স্ট্রোক, ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা ও গরমে অসুস্থ হওয়া রোগী।
রংপুর: রংপুরে তীব্র খরতাপে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন বিভিন্ন অসুখে।
রংপুর আবহাওয়া অফিস জানায়, সোমবার বৃহত্তর রংপুরে তাপমাত্রা ছিল ৩২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এ দিকে, প্রচণ্ড রোদের তাপ আর হাওয়ারুদ্ধ প্রকৃতিতে নেতিয়ে পড়ছে গাছ-গুল্ম-লতা। এদিকে গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোডশেডিং। এতে জনজীবনে নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম হচ্ছে।
সাতক্ষীরা: তীব্র গরমে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে নাকাল হয়ে পড়েছে সাতক্ষীরাবাসী। সকাল হতে না হতেই সূর্যের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর সময় গড়িয়ে দুপুর আসতে না আসতেই সেই দাবদাহ রীতিমতো অসহনীয় হয়ে উঠছে।
শহরের কলেজ রোড এলাকার ভ্যানচালক সিদ্দিকুর রহমান জানান, গরমে ঠিকমতো ভ্যান চালাতে পারছি না।
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা): গত এক সপ্তাহ থেকে জীবননগরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভ্যাপসা গরমের তীব্রতা, রোদের প্রখরতা ও আগুনের মতো উত্তপ্ত বাতাস জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। দিন যত যাচ্ছে ততই তাপমাত্রা বাড়ছে। ফ্যানের বাতাসেও স্বস্তি মিলছে না।
যশোর: মাত্রাতিরিক্ত গরমে নাকাল যশোরের মানুষ। পশুপাখির অবস্থাও একইরকম। তীব্র গরমে দেখা দিয়েছে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যাও। সোমবার যশোরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৯ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রায় সপ্তাহকাল চলছে এ তাপদাহ।
এদিকে গরমের কারণে শহরে শরবত ও ডাবের দোকানে উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। এক গ্লাস শরবত বিক্রি হচ্ছে পাঁচ থেকে শুরু করে ২০ টাকা পর্যন্ত। আর ডাব বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত।
ঝিনাইগাতী (শেরপুর): ঝিনাইগাতীতে তীব্র গরমের সঙ্গে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় হাজার হাজার অগভীর নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে। ফলে খাল-বিল, নদী-নালা, পুকুর ও ঝরনাসহ নানা স্থানের জলাশয়ের পানি পান করে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন লোকজন।
