এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:৪২
জীববিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র অলোক কুমার মিস্ত্রী বন্যপ্রাণী গবেষক ও কলামিষ্ট (প্রভাষক)জীববিজ্ঞান বিভাগ প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ আমি তোমাদের জীববিজ্ঞান ২য় পত্রের ৮.১ মানবদেহ (কঙ্কালতন্ত্র ) Skeletal system - বিষয়ের ওপর রচনামূলক প্রশ্নোওর উপস্থাপন করব, যা ফাইনাল ২০১৩ সালের (সকল বোর্ড) পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্ন ঃ অস্থি সন্ধি কী ? চিহ্নিতচিত্রসহ একটি আদর্শ সাইনোভিয়াল অস্থি সন্ধির গঠন বর্ণনা কর। উত্তর ঃ অস্থি সন্ধি ঃ কোন একটি তরুণাস্থি বা অস্থি অপর একটি তরুণাস্থি বা অস্থির সহিত সংযুক্ত হয়ে অস্থিসন্ধি গঠন করে অর্থাত্ দুই বা ততোধিক অস্থির সংযোগস্থলকে অস্থি সন্ধি বলা হয়। অস্থিগুলো পরস্পরের সঙ্গে যোজক কলা দিয়ে এমনভাবে যুক্ত থাকে, যাতে অস্থি সন্ধিগুলো বিভিন্ন মাত্রায় সঞ্চালিত হতে পারে। সাইনোভিয়াল অস্থি সন্ধির গঠন ঃ সাইনোভিয়াল গহ্বর সমন্বিত অস্তিসন্ধিকে সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি বলে। এ ক্ষেত্রে দুই অস্তির সংযোগকারী তল আর্টিকুলার তরুণাস্থি নামে মসৃণ, স্বচ্ছ তরুণাস্থির পাতলা স্তরে আবৃত থাকে এবং গহ্বর বেষ্টনকারী সাইনোভিয়ালঝিল্লি-নিঃসৃত মিউকোপলিস্যাকারাইডে গঠিত সাইনোভিয়া নামে চটচটে ও পিচ্ছিল তরলে মাখানো থাকে। সন্ধি গহ্বরটি আর্টিকুলার ক্যাপসুল (Articular capsule) নামে একটি দ্বিস্তরী ঝিল্লিতে বেষ্টিত। এর বাইরের অস্তির সংযোগকারী তলের সাথে সুদৃঢ় যুক্ত এবং পেরিঅষ্টিয়ামের সাথে অবিচ্ছিন্ন। অন্যদিকে, ভেতরের স্তরটি শিথিল যোজক কলায় নির্মিত সাইনোভিয়াল ঝিল্লি সমস্ত অন্তঃস্থ সংযোগকারী তল আবৃত করে রাখে। যখন একটি সন্ধিতে দুটি মাত্র অস্তিরণ বর্হিভাগ এসে মিলিত হয় অখন একে সরল সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি বলে। আর যখন দুইয়ের বেশি অস্থি মিলিত হয় তখন একে জটিল সাইনোভিয়াল সন্ধিও বলা হয়ে থাকে। প্রশ্ন ঃ প্রজাতি পর্যন্ত মানুষের শ্রেণিবিন্যাস কর এবং মানুষের পাঁচটি অনন্য বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর। উত্তর ঃ মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম ঃ Homo sapiens মানুষের শ্রেণিবিন্যাস ঃ Phylum-Chordata Sub-Phylum-Vertebrata Class-Mammalia Order-Primates Sub-order-Hominoidea Family-Hominidae Genus-Homo Species- Homo sapiens মানুষের অনন্য পাঁচটি বৈশিষ্ট্য ঃ মানুষের অনন্য ৫টি বৈশিষ্ট্য নিম্নে উল্লেখ করা হল ঃ চলন ঃ একমাত্র মানুষই সেই প্রাণী যাহারা দু’পায়ে হাঁটতে সক্ষম। দৃষ্টিশক্তি ও ঘ্রান ইন্দ্রিয় ঃ মানুষ যেহেতু দিবাচর অর্থাত্ দিনে চলাফেরা করে, তাই তাদের দৃষ্টিশক্তি বিকশিত হয়েছে মাত্র। মানুষ দ’ুচোখের মাধ্যমে 3D প্রতিবিম্ব দেখতে সক্ষম। আর এ কারণেই মানুষ ঘ্রান ইন্দ্রিয় শক্তির উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল নয়। মস্তিষ্কের বিকাশ ঃ বিবর্তন জনিত দৃষ্টি শক্তির বিকাশ ও হাত-পায়ের ব্যবহারের সাথে এসেছে এদের দৈহিক কাঠামোতে বিশাল পরিবর্তন, মস্তিষ্কের উন্নততর বিকাশ (Devolopment) , বিশেষ করে Cerebral cortex এর বিকাশ। এত পরিণত ও বড় মস্তিষ্কের আকার অন্য কোন স্তন্যপায়ীতে দেখা যায় না। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কের আকার ঃ প্রায় ১৩০০-১৭০০ ঘন সেন্টিমিটার। গড় আয়ু বৃদ্ধি ঃ বিবর্তনজনিত দৈহিক আকার বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষের গড় আয়ু ও বেড়েছে। এর কারণ চিকিত্সাবিজ্ঞানের এক বিশাল বৈপ্লবিক পরিবর্তন। যা মানুষের গড় আয়ুর ওপর এসে পড়েছে। গর্ভকাল বৃদ্ধি ও সামাজিক জীবনের বিকাশ ঃ মানুষের গর্ভকাল বৃদ্ধি পাওয়ায় অপেক্ষাকৃত বেশি পরিণত সন্তান উত্পাদন হচ্ছে,যারা উন্নত মস্তিষ্কের অধিকারী। আর উন্নত সামাজিক জীবনযাপন এবং মানুষের বিবর্তনগত সাফল্য যা মানুষকে এনে দিয়েছে পৃথিবীতে যুগ যুগ ধরে টিকে থাকার লড়াইয়ের মূল চালিকা শক্তি।