কী করে এলো

আয়ু জানাবে রক্ত পরীক্ষা!

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:৪৯
বেঁচে থাকার আকুতি প্রায় সব মানুষের জন্যই চিরন্তন। আর তাই মৃত্যু নামের অমোঘ সত্যটিকে কিছুটা হলেও যদি বিলম্বিত করা যায় সেই চেষ্টা হরহামেশাই করে থাকেন চিকিত্সাবিজ্ঞানীরা। মানুষকে সুস্থ ও নীরোগ রাখার জন্য এবং অসুখ-বিসুখ থেকে বাঁচিয়ে দীর্ঘ জীবন লাভে সহায়তা করার জন্য রোগ নির্ণয় আর রোগের চিকিত্সার নিত্যনতুন পন্থা আবিষ্কার করে চলেছেন বিজ্ঞানীরা। এ বাস্তবতায় রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এখন অনেক রোগের কথাই আগাম জানতে পারে মানুষ। কিন্তু একজন মানুষ ঠিক কতদিন বাঁচবেন বা তার আয়ু কতদিন হবে তাও কি জানা সম্ভব এ ধরনের কোনো পরীক্ষার মাধ্যমে। এতোদিন পর্যন্ত এ জাতীয় প্রশ্নকে স্রেফ হেয়ালি বলে মনে হলেও সাম্প্রতিক সময়ে একদল গবেষক রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে মানুষের আয়ু সম্পর্কে আগাম তথ্য জানানো সক্ষম বলে দাবি করেছেন। যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত ক্রোমোজোমের উপাদান বিশ্লে¬ষণের এই প্রক্রিয়া নিয়ে খোদ বিজ্ঞানীদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক থাকলেও গবেষকরা তাদের পদ্ধতির কার্যকর ব্যাখ্যা দিয়ে এটিকে নিশ্চিত একটি প্রক্রিয়া বলেই দাবি করেছেন। এদের মতে, বিশেষ একধরনের রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে মানুষ আর কতদিন বাঁচবে তা নিশ্চিত করেই বলা সম্ভব হবে যদি এর মাধ্যমে ক্রোমোজোমের মাথায় থাকা বিশেষ উপাদান টেলোমেয়ার সম্পর্কে জানা যায়। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, যখন কোষ বিভাজিত হয়, তখন টেলোমেয়ার ক্রোমোজমকে রক্ষা করে। এ কারণে রক্তকোষে টেলোমেয়ারের দৈর্ঘ্য যত বেশি, মানুষ বা প্রাণীর বুড়িয়ে যাওয়ার হারও ততোটাই ধির। অর্থাত্ ক্রোমোজোমের সঠিক সুরক্ষার কারণে অধিক দৈর্ঘ্যের টেলোমেয়ার থাকা মানুষের আয়ুও বেশি। পক্ষান্তরে রক্তকোষে টেলোমেয়ারের দৈর্ঘ্যের স্বল্পতার হার যত বেশি, বয়স বাড়বে তত দ্রুত এবং আয়ুও তত কম। ইতোমধ্যে এই পদ্ধতিতে নিজেদের আয়ু জানার জন্য রক্ষপরীক্ষা করিয়েছেন শতাধিক ব্রিটিশ নাগরিক। যদিও খোদ চিকিত্সাবিজ্ঞানে নোবেল জয়ী এক বিজ্ঞানীই এই পদ্ধতিকে অকার্যকর আখ্যায়িত করে বলেছেন এ ধরনের রক্ত পরীক্ষা বা ক্রোমোজোমের ধরন বিশে¬ষণ করে মানুষের আয়ু সম্পর্কে যে ভবিষদ্বানী করা হচ্ছে তা সত্যি হবার সম্ভাবনা শতকরা এক ভাগের বেশি নয়!