গত রোববার বিকালে দেশে ফিরেছিলেন সাকিব আল হাসান। গতকাল দুপুরে ঢুঁ মেরেছেন মিরপুর স্টেডিয়ামে। খুব বেশিক্ষণ অবস্থান না করে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেছেন ওয়ানডে দলের সহঅধিনায়ক।
মধ্যাহ্ন ভোজের পর বিশ্বকাপের অফিসিয়াল সবুজাভ জার্সিটা অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার হাতে তুলে দেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। পরে বিসিবির কয়েকজন পরিচালক, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলসহ ফটোসেশনে অংশ নেন বিসিবি সভাপতি।
কিন্তু সেই ফটোসেশন পূর্ণতা পায়নি এবং অসম্পূর্ণতার কারণ সাকিব। ফটোসেশন হবে জানানোর পরও থাকেননি তিনি। পুরো দলটা একসঙ্গে ফটোসেশন করেছে সবুজ জার্সি গায়ে জড়িয়ে। সেখানে অনুপস্থিত সাকিব। জার্সি নিয়ে আনুষ্ঠানিকতার এই পর্বে বাঁহাতি এই অলরাউন্ডারের অনুপস্থিতিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন নাজমুল হাসান পাপন।
গতকাল ফটোসেশনে দৃষ্টিকটু লেগেছে সাকিবের এমন কাণ্ড। বিসিবির এক কর্মকর্তা বলছিলেন, তরুণদের সামনে খুব বাজে দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করলেন বাঁহাতি এই অলরাউন্ডার। আইপিএলে খেলবেন বলে বিসিবির ডাকে সাড়া দেননি। বিশ্বকাপে ক্যাম্পেও অংশ নেননি। আইপিএল শেষে দেশে ফিরলেও জার্সি উন্মোচন ও ফটোসেশনে তাকে না পেয়ে নাখোশ বিসিবি সভাপতি।
গতকাল সাকিবের অনুপস্থিতি নিয়ে নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, ‘দুঃখজনক, আর কী বলব? এটা দুঃখজনক, যেহেতু টিম ফটোসেশন ছিল। আমি এসেই জিজ্ঞেস করেছি। এমন কী আমি এখানে যখন ঢুকি তখন তাকে ফোন করেছিলাম। কোথায় তুমি? বলল আমি তো চলে এসেছি। ও যে এসেছে আমি জানিও না, পত্রিকায় পড়েছি। আমার সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি। পরে বলল আপনার বাসায় আসব রাতে। বলেছি, এখন একটু দেখা হোক। বলল আমি তো বেরিয়ে গেছি।’
অভিজ্ঞ একজন ক্রিকেটারের এমন শৃঙ্খলা না মানার বিষয়টি ভালো লাগেনি বিসিবি সভাপতিরও। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘জিজ্ঞেস করে জানলাম, ওকে আগেই বলা হয়েছে ফটোসেশন আছে। জাতীয় দল যাচ্ছে একসঙ্গে, ফটোসেশনে একসঙ্গে থাকবে। এমনিতেই তো প্র্যাকটিসে ছিল না। এটা আমরা আশা করেছিলাম কিন্তু সে তো নাই। এটাই বাস্তবতা।’
সাকিবের এমন আচরণের সঙ্গে নাকি দল অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তাই এই কাণ্ড দলের স্পিরিটে প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করেন নাজমুল হাসান পাপন। তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হয় টিমের অন্যারা এতদিনে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। যাই হোক, এছাড়া আর কী বলব। আমি মনে করি এটা সাকিবের জন্য দুর্ভাগ্য। বিশ্বকাপ টিম যাচ্ছে, এটার সঙ্গে যে থাকতে পারল না সেটা আমি মনে করি ওরই কপাল খারাপ।’
