মনোহরগঞ্জে অযত্নে ১৫ শহীদের গণকবর

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৩৮
১৯৭১ সালে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে (সাবেক লাকসাম) পাকহানাদারদের গুলিতে শহীদ হওয়া ১৫ মুক্তিযোদ্ধার গণকবর পড়ে আছে অযত্নে। বর্তমানে এটি পরিণত হয়েছে গো-চারণভূমিতে। জানা যায়, ’৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পাক-সেনারা এই অঞ্চলগুলোতে মাঝে-মাঝে টহলে আসত। আগষ্টের মাঝামাঝি সময়ে হানাদারবাহিনী ভোররাতে হাসনাবাদের মানরা মুন্সিবাড়ি আক্রমণ করে। তখন বাড়ির অনেকেই ফজরের নামাজের জন্য তৈরি হচ্ছিল। এ সময় তারা মুন্সিবাড়ির সকল পুরুষ সদস্যকে উঠানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করে। পাক-সেনাদের গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে জিন্নত আলী, রৌশন আলী, কেরামত আলী, সায়েদ আলী, আরব আলী, তৈয়ব আলী মুন্সি এবং মুসলিম মিয়া। একই দিন পাক-সেনারা মানরা গ্রামে আরো ৭ জনকে হত্যা করে। তারা হলেন- মজু আলী, আন্জারা বেগম, কোটু মিয়া, ছোয়াব মিয়া, চাঁন মিয়া, ইউনুছ মিয়া ও কামালউদ্দিন। মুক্তিযুদ্ধে জীবনদানকারী এসব শহীদের কবর রক্ষণাবেক্ষণে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে উল্লেখযোগ্য কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। শুধু ২০০১ সালে সাবেক এমপি কর্ণেল (অব.) এম আনোয়ারুল আজিম গণকবরগুলো সংস্কারে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বর্তমানে প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে ’৭১-এর স্মৃতিবিজড়িত এ গণকবরগুলো।