স্পোর্টস রিপোর্টার
গল্প-সাহিত্যে পড়া ইংলিশ গ্রীষ্মের উইকেট এখন আর নেই। এখন ইংল্যান্ডেও রানের বন্যা হয় নিয়মিত। ওয়ানডে ক্রিকেটে এখন সেখানেও নিয়মিত তিনশ, সাড়ে তিনশ রান হচ্ছে। এবার বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডে এই বড় রান করতে পারাটাই প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন মাশরাফি।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি পরিষ্কার বলে দিলেন, ইংল্যান্ডে এই বড় রান করা ও বড় রান তাড়া করতে পারাটাই ব্যাটসম্যানদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে, ‘ইংল্যান্ড কিংবা নিউজিল্যান্ডে দ্বিপক্ষীয় সিরিজগুলোতে আমরা জানতাম যে ব্যাটিং করা কঠিন। কিন্তু এখন দ্বিপক্ষীয় সিরিজগুলোতে প্রচুর রান হয়। আর বিশ্বকাপে আইসিসির চাওয়া থাকে ফ্ল্যাট উইকেট এবং প্রচুর রানের। সেই ক্ষেত্রে অবশ্যই এখানে বড় রানের খেলা হবে। ইংল্যান্ডে এই সময়ে অনেক রান হয়। সব দলের বোলারদের জন্যই চ্যালেঞ্জ। এটা অবশ্যই একটা চ্যালেঞ্জ।’
মাশরাফি মনে করেন, তার ব্যাটসম্যানদের এরকম বড় বড় স্কোর করার সামর্থ্য আছে। কিন্তু দেশের মাটিতে নিয়মিত বড় স্কোর হয় না বলে কাজটা কঠিন বলে বলছিলেন অধিনায়ক, ‘রান করার সামর্থ্য যে আমাদের নেই তা বলবো না। অতীতে হয়ত এরকম রেকর্ড খুব একটা নেই। চেইজ করে জিতেছি বা এত বড় রান করেছি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আমরা ৩২৯ করেছিলাম। তামিম একশ করেছিল। এরকম যদি ব্যাটিং করি তাহলে পসিবল। আমাদের রিসেন্ট পাস্টে এত বড় স্কোর নাই। একটা কারণ হতে পারে আমাদের হোম কন্ডিশনে তো এত এত রান হয় না। এটা একটা ব্যাপার। অভ্যাসের একটা ব্যাপার আছে। বলা কঠিন তবে সামর্থ্য যে নেই তা বলবো না। আমাদের ব্যাটিং অর্ডার অনেক অভিজ্ঞ। কিন্তু অনফিল্ডে ২২ গজে যে চাপটা আসবে ওই চাপ হ্যান্ডেলও করতে হবে আবার রানও করতে হবে। এটা ডিপেন্ড করে মেন্টালিটির ওপর। কিন্তু সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন নাই।’
মাশরাফি জানেন, এরকম বড় স্কোর করতে হলে তামিমের সঙ্গে জ্বলে উঠতে হবে নিয়মিত সৌম্য সরকার ও লিটন দাসকে। এই দুজনকে হাত খুলে খেলতেই দেবে দল। তবে তাদের তিনি বলছেন, ধারাবাহিক হতে, ‘আপনারা দেখেছেন তামিমকে আমরা যে ভূমিকা দিয়েছি লম্বা সময় ব্যাট করার, ও লম্বা সময় ব্যাট করলে আমাদের রানটা বড় হয়। ও একশো করলে আমাদের তিনশোর কাছে যায়, তিনশোও হয়েছে। তামিম তার খেলার ধরন পাল্টেছে দলের জন্য। তামিম এখন ফোকাস করে ৪০ ওভার ব্যাট করার। ৫০ ওভারও বলি কখনো কখনো। তামিমকে যখন এই ভূমিকা দিচ্ছি তখন বাকিদের লিটন বা সৌম্যকে ওই স্বাধীনতা দিতে হয় যাতে শটস খেলতে পারে। নিউজিল্যান্ডে লিটন তিন ম্যাচেই মারতে গিয়ে আউট হয়েছে। সমালোচনা কিন্তু হয়েছে কিন্তু আমাদের ওর ওপর কোনো চাপ ছিল না। কারণ একেবারেই ওটা ছিল ওরা ফ্রি ক্রিকেট খেলুক। এরমানে এই না যে ফ্রি ক্রিকেট খেলতে গিয়ে আউট হবে। আপনি যদি দেখেন বীরেন্দর শেবাগ বা গিলক্রিস্টের মতো কে মারত। কিন্তু ওদের ধারাবাহিকতা ছিল। ওদেরকেও এটা এডজাস্ট করতে হবে। ওরা যদি পারফর্ম করতে পারে তাহলে দলের জন্য ভালো হবে।’
