টঙ্গীতে বিনা চিকিত্সায় মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৪১
মহান বিজয়ের মাসে বিনা চিকিত্সায় মারা গেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হানিফ হাওলাদার। এমনকি মৃত্যুর পরও তিনি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পেলেন না। সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা আসলেও ম্যাজিস্ট্রেট না আসার কারণে শুক্রবার গার্ড অব অনার ছাড়াই টঙ্গী পৌর এলাকার এরশাদনগর ৮ নম্বর ব্লকের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা হানিফ দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর ধরে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত ছিলেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক এমনকি প্রধানমন্ত্রী বরাবরে আবেদন করেও কোন সহযোগিতা পাননি। টঙ্গীর এরশাদনগরের নিজের একমাত্র বাড়িটি মাত্র এক লাখ টাকায় অন্যত্র বন্ধক রাখেন এবং পাশে ভাড়া বাড়িতে থেকে চিকিত্সার ব্যয়ভার বহন করে যাচ্ছিলেন। বাড়ি বন্ধকের টাকাও শেষ হয়ে যাওয়ায় অবশেষে বিনা চিকিত্সায় এবং অনাহারে-অর্ধাহারে শুক্রবার সকালে তিনি মারা যান। বাদ জুমা এরশাদনগর ৮ নম্বর ব্লকের প্রধান সড়কে অনুষ্ঠিত জানাজায় সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. নাজিম উদ্দিন আহমেদ, উপজেলা চেয়ারম্যান এস.এম শাহানশাহ আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. নাজিম উদ্দিন আহমেদ জানান, মোজাম্মেল হক বীর প্রতিক এর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধকালীন তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানের বনানীর বাড়ি আক্রমণে বীর মুক্তিযোদ্ধা হানিফ হাওলাদারও সরাসরি অংশ নেন। ১০ জানুয়ারী প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত্ চেয়ে করা আবেদনপত্রে হানিফ ২ নম্বর সেক্টরে মেজর হায়দারের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন । এদিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন না করার বিষয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল ইসলাম ও সদর উজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফৌজিয়া রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, এ ব্যাপারে আমাদেরকে কেউ জানায়নি। গাজীপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার কাজী মোজাম্মেল হক বলেন, সম্ভবত হালনাগাদ মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় হানিফের নাম নেই তাই তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়া হয়নি। সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার অভিযোগ করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা হানিফ বিএনপি’র সমর্থক ছিলেন। ফলে তাকে মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।