নারায়ণগঞ্জের মাদক ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৫২
থার্ডি ফার্স্বকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের মাদক ব্যবসায়ীরা তত্পর হয়ে উঠেছে। আগামীকাল সোমবার রাতে থার্টি ফার্স্ট নাইটে বিদেশি মদ থেকে শুরু করে দেশিয় মদ, সেই সঙ্গে ফেনসিডিল, ইয়াবার চালান আসতে শুরু করেছে বলে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। রাজধানী ও আশে পাশের এলাকায় মাদক সামগ্রী পৌছে দেওয়ার ট্রানজিট রুট হিসেবে নারায়ণগঞ্জ দীর্ঘদিন যাবত্ ব্যবহূত হয়ে আসছে। মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত রাঘব বোয়ালরা আজও পর্যন্ত আইন-শৃংঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা না পড়লেও এ ব্যবসার সাথে জড়িত চুনি পুটিরা মাঝে মধ্যে ধরা পড়ছে। কিন্তু পর্দার আড়ালেই রয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসার গড ফাদাররা! কয়েকমাস অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু নারায়ণগঞ্জের উপর দিয়েই প্রতি মাসে ১০ কোটি টাকার বেশি-বিদেশি মদ ঢাকা ও আশেপাশের এলাকায় পাচার হয়ে থাকে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ দিয়ে প্রতিমাসে পঞ্চাশ কোটি টাকার ফেনসিডিল ও ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক সামগ্রী জেলার আশেপাশের এলাকা ও রাজধানীতে পাচার হয়ে থাকে। শুধু নারায়ণগঞ্জেই দুই কোটি টাকার মত বিদেশি মদ বিক্রি হয়ে থাকে। এছাড়া সহস্রাধিক পয়েন্টে কয়েক হাজার খুচরা বিক্রেতা ফেনসিডিল ও ইয়াবা বিক্রি করে আসছে। নারায়ণগঞ্জ শহরে মাত্র ৩ জন মাদক ব্যবসায়ীর সন্ধান পাওয়া গেছে যারা প্রতিমাসে কোটি টাকার বেশি বিদেশিমদ ও ফেনসিডিল বিক্রি করে আসছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, জনৈক বাচ্চু, শ্যামল ও সমর নামের ৩ ব্যক্তি প্রতিমাসে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব, রাইফেলস ক্লাবের আশেপাশে দেওভোগ, নন্দি পাড়া, পঞ্চবটি, ফলপট্টি, শীতলক্ষ্যা, টান বাজার, খাঁনপুর, পাইক পাড়া, বন্দর, সোনারগাঁও, সিদ্ধিরগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে ২ কোটি টাকারও বেশি-বিদেশি বিয়ার, হুইসকিসহ বিভিন্ন ব্রান্ডের মদ ও ফেনসিডিল বিক্রি করে থাকেন। সূত্র মতে, এ সকল বিদেশি মদ সাধারণত বিশেষ স্টিকার লাগানো প্রাইভেটকার এমনকি দূতাবাসের গাড়ী দিয়েও ঢাকার বিভিন্ন ওয়্যার হাউজ থেকে আনা হচ্ছে নিয়মিত। মাদক ব্যবসায়ী বাচ্চু এর আগে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের কমিউনিটি সেন্টারে রাখা বিপুল পরিমাণ মদসহ আইন-শৃংঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। এরপর বাচ্চু কিছুদিন নীরব থাকলেও সে আবার মাদক ব্যবসা শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, বিশেষ একটি কমিউনিটি সেন্টারে বাচ্চু তার বিদেশি মদ রেখে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করত। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব ও আশেপাশের এলাকায় সমর বিদেশি মদ ও ফেনসিডিল বিক্রির ব্যবসা অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কিংবা আইনশৃংঙ্খলা বাহিনী এদের সর্ম্পকে অবগত হওয়া সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে এরা রয়েছে ধরা ছোয়ার বাইরে। সমরের মাদক ব্যবসার সহযোগী হিসেবে একজন মাছ ব্যবসায়ী ও একজন ডিস ব্যবসায়ীর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।