রামুর বৌদ্ধ বিহার ও পল্লীতে সেই ভয়াল হামলার ৩ মাস পূর্ণ হচ্ছে আজ। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়েও ঘটনার পরিকল্পনাকারী শনাক্ত হয়নি। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে কতিপয় দুষ্কৃতকারী মিছিল-সমাবেশ করে বৌদ্ধ বিহার ও বসতবাড়িতে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। এসময় রামুর ১২টি বৌদ্ধ বিহার, ২৬টি বসতঘর ও দোকান পুড়িয়ে দেয়া হয়। ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় আরও ছয়টি বৌদ্ধ বিহার ও শতাধিক বসতঘর। পরদিন উখিয়া-টেকনাফে বৌদ্ধ বিহার ও পল্লীতেও একই ঘটনা ঘটে। উখিয়ায় ৭টি বিহার অগ্নিসংযোগ ও হামলার শিকার হয়। এসব ঘটনায় ইতিমধ্যে প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে আসামি করে ১৯টি মামলা রুজু করা হয়েছে। এসব মামলায় গত শুক্রবার পর্যন্ত ৩১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার অধিকাংশই নিরীহ বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ২১ জন ব্যক্তি ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। পুড়ে যাওয়া বসতঘর ও দোকানপাট সরকারি সহায়তায় পুনর্নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। বিহারসমূহও আরো সম্প্রসারিত আকারে পুনর্নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই বৌদ্ধ পল্লী ও বিহারে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
কক্সবাজার ১৭ প্রকৌশল ব্যাটালিয়ন কোরের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সিদ্দিক মোহাম্মদ জুলফিকার রহমান জানান, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বর্তমানে রামুর ১২টি ও উখিয়ার ৭টি বৌদ্ধ বিহারের পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার কাজ চলছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
হামলার পরিকল্পনাকারী আজও শনাক্ত হয়নি কেন, এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও রামুর ঘটনায় গঠিত চার সদস্যবিশিষ্ট সরকারি তদন্ত দলের অন্যতম সদস্য বাবুল আক্তার জানান, সাক্ষ্য প্রমাণ ও ঘটনার রাতের ভিডিও ফুটেজ দেখে সুনির্দিষ্ট আসামিদের চিহ্নিতপূর্বক তাদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত কিনা- সে ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনায় গান পাউডার কিংবা ককটেল ব্যবহারের কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
