ঢাকার কেরানীগঞ্জের মাসুদ আহমেদ। চেহারা ও কথাবার্তায় দারুণ স্মার্ট। বিয়ে করেছেন আট বছর আগে। সে সময় তিনি স্বর্ণের ব্যবসা করতেন। কিন্তু স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায় লোকসান দিচ্ছিলেন। আর লোকসানের কষ্ট ভুলে থাকতে মাঝে মাঝে ফেনসিডিল খেতেন। শেষটায় ফেনসিডিল খেতে গিয়ে স্বর্ণ ব্যবসার তলানিটাও শেষ হয়ে যায়। এরপর শুরু করেন ফেনসিডিল ব্যবসা। তবে সব লোকসান অল্পদিনের মধ্যেই পুষিয়ে নেন। প্রেম করে বিয়ে করা স্ত্রীর কাছে তিনি এখনও একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ি। কিন্তু এরই মধ্যে পুলিশ তালিকায় হয়ে গেছেন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ি। এমনকি পুলিশ নামের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছে গালকাটা মাসুদ। নিজের সম্পর্কে এভাবেই অনুভুক্তি ব্যক্ত করেন ফেনসিডিল ব্যবসায়ি মাসুদ। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর রামপুরা ব্রিজ এলাকা থেকে ৫ হাজার বোতল ফেনসিডিলসহ মাসুদের চার সহযোগীকে গ্রেফতার করে। পরে ঐ রাতেই তাদের দেয়া তথ্যমতে মাসুদকে গ্রেফতার করে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে। ডিবি পুলিশ মাসুদসহ ৫ জনকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
কেরানীগঞ্জের দক্ষিণ পানগাঁয়ের স্থায়ী বাসিন্দা মাসুম আহমেদ। দুই ভাই-বোনের মধ্যে তিনি বড়। পড়াশুনা ষষ্ঠ শ্রেণী। নিজের সম্পর্কে মাসুদ জানান, এক সময় ফতুল্লায় তার স্বর্ণের দোকান ছিল। শুরুতে ভালই চলছিল। পরবর্তীতে লোকসানের কারণে স্বর্ণ ব্যবসা ছেড়ে দেন। তাও প্রায় দুই বছর। পরে এলাকার এক মাদক ব্যবসায়ির সহায়তায় শুরু করেন ফেনসিডিল ব্যবসা। ফেনসিডিল সংগ্রহ করতেন স্থানীয় মাদক ব্যবসায়িদের কাছ থেকে। কয়েক মাস পর ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ ধরা পড়েন ফতুল্লা থানা পুলিশ হাতে। পাঠানো হয় নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে। জেল খাটেন সাড়ে তিন মাস। আর জেল থেকে ছাড়া পান ছয় মাস আগে। তবে গ্রেফতারের বিষয়টি স্ত্রীকে বলা হয়েছিল, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। তাকে ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছিল। জেলে থাকতেই পরিচয় হয় বেনাপোলের মাদক ব্যবসার দালাল সোহেল মোল্লার সঙ্গে। প্রায় একই সময় জেল থেকে ছাড়া পায় সোহেল মোল্লা। এরপর দু’জনে মিলে শুরু করেন ফেনসিডিল ব্যবসা। গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকটি ফেনসিডিলের চালান ঢাকায় এনে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেছেন।
পাঁচ হাজার বোতলের ফেনসিডিল চালান সম্পর্কে মাসুদ বলেন, এ চালানের একটি অংশ ছিল নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং সড়কের নুর হোসেনের। কিন্তু ফেনসিডিলের ট্রাক ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই ডিবি পুলিশ তা আটক করে। আর আটকৃতদের দেয়া তথ্যমতে ডিবি পুলিশ তাকে ফতুল্লার ভাড়া বাসা থেকেই গ্রেফতার করে। তিনি আরও বলেন, আর এ গ্রেফতারের ফলে স্ত্রীও জেনে গেছে আমি আসলেই কুখ্যাত ফেনসিডিল ব্যবসায়ি। তবে তিনি নিজের অপকর্মের জন্য আজ অনুতপ্ত। মুক্তি পেলে তিনি আর জড়াবে না ফেনসিডিল ব্যবসায়। ফেরার চেষ্টা করবেন স্বাভাবিক জীবনে।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি (পশ্চিম) মশিউর রহমান বলেন, বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে তিনি চলতি বছরের প্রায় ৫০ হাজার ফেনসিডিল আটক করেছেন। তারই সূত্র ধরে মাসুদকে, চক্রটিকে আটক করা হয়। আরও কিছু চক্র রয়েছে তাদেরকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
