নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর গতকাল শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঝটিকা মিছিল করেছে। খবর পেয়ে দ্রুত র্যাব-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে মিছিলকারীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, গুলি বর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হিযবুত তাহরীরের ৩৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে ৭ জনকে ঘটনাস্থল থেকে ৩২ জনকে বিএমএ ভবন ও আশপাশ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
উল্লেখ্য, গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলছিল। এছাড়া প্রেসক্লাবের সামনে একটি সংগঠন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করছিল। এ ঘটনায় প্রেসক্লাব ও এর আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে নাজিমুদ্দীন বাবলা (৫৫) ও জহিরুল ইসলাম (২৪) নামে দুজন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে হিযবুত তাহরীরের ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল হঠাত্ প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হয়। এ সময় এক যুবক ব্যাগ থেকে একটি ব্যানার বের করে এবং ‘নারায়ে তাকবির’ শ্লোগান দিয়ে মিছিল শুরু হয়। মিছিলে বাধা দিলে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় একটি হাতবোমার বিস্ফোরণও ঘটে। মিছিল দেখেই প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থানরত পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। এতে হিযবুত তাহরীরের নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। তাত্ক্ষণিকভাবে ৭ জনকে আটক করে পুলিশ। এক পর্যায়ে হিযবুত তাহরীর সদস্যরা জাতীয় প্রেসক্লাব ও বিএমএ ভবনে ঢুকে পড়ে। পরে র?্যাব ও পুলিশ বিএমএ ভবন ঘেরাও করে তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে ৩২ জনকে আটক করে।
পুলিশ পরিদর্শক (পেট্রোল) মো. শহিদ জানান, বেলা সোয়া ১২টার দিকে হঠাত্ হিযবুত তাহরীর সদস্যরা প্রেসক্লাবের সামনে সংগঠনের ব্যানার নিয়ে জড়ো হয় এবং সরকারবিরোধী শ্লোগান দেয়। এরপর হিযবুত তাহরীর সদস্যরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছুঁড়তে থাকে। এসময় বেশ কিছুক্ষণ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। পুলিশ লাঠিপেটার পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জহিরুল ইসলাম সময় মিরপুর বাংলা কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র। চিকিত্সকরা তার শরীরে তিনটি ক্ষতচিহ্ন পেয়েছে। জহিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার সময় তিনি রিকশায় করে যাচ্ছিলেন। তখন পুলিশের রাবার বুলেট তার গায়ে লাগে। তবে চিকিত্সকরা তার শরীরে রাবার বুলেটের কোনো আলামত পায়নি। অন্যদিকে নাজিমুদ্দীন বাবলা নিজেকে একজন লন্ড্রি ব্যবসাসী দাবি করে ঢামেক হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার সময় তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আয়োজিত একটি মানববন্ধনে ছিলেন। এরই মধ্যে হঠাত্ ককটেল বিস্ফোরিত হয়।
