তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের চুক্তির ব্যাপারে আবারো ঘোর আপত্তি জানিয়েছে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার। গত শুক্রবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লীতে জাতীয় পানিসম্পদ কাউন্সিলের এক বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, রাজ্যের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে পানি বণ্টন সংক্রান্ত চুক্তি সম্পাদন করা যাবে না। বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এ বিবৃতি পড়ে শোনান রাজ্যের সেচ ও পানিসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী রাজীব ব্যানার্জি। এদিকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশীদ বলেছেন, পররাষ্ট্র নীতির প্রশ্নে রাজ্যের মতামত নেয়া বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সম্মতি ছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে দিল্লী তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। গতকাল কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আন্তর্জাতিক নদীর পানি বণ্টন ও ব্যবস্থাপনার বিষয়টি রাজ্য সরকারের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা উচিত। একইসঙ্গে জাতীয় পানি নীতিতে তুলে ধরা উচিত। বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী হরিশ রাওয়াতসহ বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন বলে এশিয়ান নিউজ নেটওয়ার্কের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরকালে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু সফরের ঠিক আগ মুহূর্তে এতে আপত্তি জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এ চুক্তি হলে পশ্চিমবঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমন দাবি করে চুক্তি করতে অসম্মতি জানান তিনি। পরে তিস্তার পানির পর্যাপ্ততা মূল্যায়নে নদী বিশেষজ্ঞ কল্যাণ রুদ্রকে প্রধান করে এক সদস্য বিশিষ্ট কমিশন গঠন করেন মমতা। গত সপ্তাহে কল্যাণ রুদ্র জানিয়েছেন, তিস্তার পানি পর্যাপ্ততা নিয়ে করা গবেষণা শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ফেলেছেন তিনি।
এদিকে তিস্তা চুক্তির জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজি করাতে বৈঠকে বসতে পারেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশীদ। তিনি চাইছেন, অবিলম্বে তিস্তাসহ সীমান্ত ও ছিটমহল সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধান হোক। আগামী ফেব্রুয়ারিতে সালমান খুরশীদের বাংলাদেশ সফরের কথা রয়েছে। এ সফরের আগেই সালমান বৈঠকে বসতে চান মমতার সঙ্গে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী রাজি হলে দ্রুতই চুক্তিটি সই করা হবে।
চুক্তি সম্পাদনের জন্য বাংলাদেশকে বারবার নিশ্চয়তা দিয়ে আসছে ভারত। তবে এখনো পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সাথে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি কেন্দ্রীয় সরকার। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী মনমোহন যত শিগগির সম্ভব তিস্তা পানি চুক্তি করতে চান। আর এ কারণে তিনি পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিতে সহায়তায় ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দিতেও প্রস্তুত আছেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেস কেন্দ্রীয় সরকার থেকে বেরিয়ে আসায় এ চুক্তি কঠিন হয়েছে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
