রোগীদের দুর্ভোগ হবে জেনেও আগামী ২ জানুয়ারি থেকে দেশের সকল ওষুধের দোকানে ৪৮ ঘন্টার লাগাতার ধর্মঘট আহ্বান করা হয়েছে। ফার্মাসিস্টদের পরীক্ষা অনুষ্ঠান ও বর্ধিত ড্রাগ লাইসেন্স ফি প্রত্যাহারের দাবিতে খুচরা ওষুধ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ কেমিষ্ট এন্ড ড্রাগিষ্ট সমিতি এই ধর্মঘট আহ্বান করেছে। তবে আগামীকাল সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আফম রুহুল হকের সঙ্গে এ ব্যাপারে সমিতির নেতৃবৃন্দের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
বর্তমানে দেশে প্রায় ৫ লক্ষাধিক ওষুধের দোকান আছে। এসব দোকানে ধর্মঘট পালিত হলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে রোগীদের। পাশাপাশি ঔষধ শিল্পের ক্ষতি হবে অন্তত শতকোটি টাকা। এ ব্যাপারে সমিতির সভাপতি মো. সাদেকুর রহমান জানান, ইতিমধ্যেই তারা একই দাবিতে গত ১২ ডিসেম্বর দেশের সকল ওষুধের দোকানে অর্ধদিবস ধর্মঘট পালন করেছেন। তারা রোগীদের দুর্ভোগ সৃষ্টি করতে চান না। সরকার দাবি পূরণের ঘোষণা দিলে তারা সঙ্গে সঙ্গেই ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেবেন। তবে তিনি জানান, দাবি না মানলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।
জানা গেছে, ফার্মাসিস্টদের পরীক্ষা নেয়ার দায়িত্ব ফার্মেসী কাউন্সিলের। স্বাস্থ্য সচিব এই কাউন্সিলের সভাপতি। সম্প্রতি কাউন্সিল গঠন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলে উচ্চ আদালত আইনুযায়ী ফার্মেসী কাউন্সিল পুনর্গঠনের আদেশ দেন। রায়ের কপি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পৌঁছালেও রহস্যজনক কারণে ফার্মেসী কাউন্সিল পুনর্গঠন করা হচ্ছে না। এ কারণে সি ক্যাটাগরির এবং গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের রেজিস্ট্রেশন বন্ধ রয়েছে।
এ ব্যাপারে ফার্মেসী কাউন্সিলের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফ্যাকালটি অব মেডিসিনের ডীন বিশিষ্ট ফার্মাকোলজিষ্ট অধ্যাপক ডা. মো. ইসমাইল খান জানান, রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই ফার্মাসিস্টগণ ওষুধ উত্পাদন করছেন। কোন বিপর্যয় হলে এর দায়িত্ব কে নেবে? এছাড়া রেজিস্ট্রেশন ছাড়া গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টগণ বিদেশে চাকরি বা উচ্চ শিক্ষার জন্য যেতে পারছেন না। এতে দেশে উচ্চ শিক্ষিত ফার্মাসিস্টের সংকট সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশংকা প্রকাশ করেন।
এর আগে দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তির প্রতীক কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনস্থলে এসে পৌঁছান সকাল সাড়ে ১১টায়। জাতীয় সংগীত বাজানোর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা এবং দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় বিভিন্ন জেলা থেকে আগত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা মঞ্চের পাশে দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। সাড়ে ৬ হাজার কাউন্সিলর, ২০ হাজার ডেলিগেটসহ প্রায় ৩৫ হাজার লোকের ধারণক্ষমতার বিশাল প্যান্ডেল তৈরি করা হয় সম্মেলনের জন্য। এর আগে ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনের উদ্বোধন উপলক্ষে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। দলের পদপ্রত্যাশী নেতাদের ব্যানার, ফেস্টুন, দলীয় প্রতীক নৌকা দিয়ে ভরে উঠে ওই অঞ্চল। তবে সবার নজর কেড়েছে নৌকার আদলে বানানো মঞ্চটি। এর এক পাশে পালের আকৃতি দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি আর বৈঠার আদলে শেখ হাসিনার ছবি দেয়া হয়। মঞ্চের এক পাশে জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামরুজ্জামান এবং অপর পাশে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মওলানা ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদ শামসুল হক, গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের ছবি টাংগানো হয়।
মঞ্চে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রথম সারিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন প্রবীণ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তবে ওয়ান ইলিভেনের সময়কার কথিত সংস্কারবাদী নেতারা বসেন মঞ্চের সামনের প্রথম সারিতে। কিছু সংস্কারবাদী নেতাকে সম্মেলনস্থলে দেখা যায়নি।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে বিরোধীদলীয় নেত্রী বা তার কোন প্রতিনিধি এতে যোগ দেননি। কয়েকজন কূটনীতিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা সম্মেলনে যোগ দেন। কিছু অব্যবস্থাপনাও চোখে পড়ে। জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের জন্য নির্ধারিত আসনগুলোতে বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতারা বসে পড়েন। সম্মেলনে দলের সভানেত্রী এবং সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য ও শোক প্রস্তাব পঠিত বলে গণ্য করতে বলা হলেও বক্তব্যের কপি সাংবাদিকসহ অনেককেই সরবরাহ করা হয়নি।
শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানস্থলে আসলে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল পর্ব শুরু হয়। পবিত্র কোরআন, গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেল পাঠের পর সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক সংসদ উপনেতা দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। এরপর শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মান্নান খান। এতে বিগত তিন বছরে দলের প্রয়াত নেতা, বাংলাদেশের প্রবাসী বন্ধু, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নাম উল্লেখ করা হয়।
এরপর শেখ হাসিনা তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রেখে সম্মেলন উদ্বোধন ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, আমরা শুধু নিয়ম রক্ষার সম্মেলন করছি না। এ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নতুন নেতা নির্বাচন করা হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতিটি কর্মীকে মনে রাখতে হবে সম্মেলন হচ্ছে দলের প্রাণ। এর মাধ্যমে দলের নেতাকর্মীরা আগামী নির্বাচনের জন্য উজ্জীবিত হবেন। তিনি তার বক্তব্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্ট ঘাতকদের হাতে নিহত এবং জাতীয় চার নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, যারা আওয়ামী লীগকে বর্তমান অবস্থানে আসতে সহায়তা করেছেন তাদের আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।
সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, আগামী নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্বাচনই নির্ধারণ করবে দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে, নাকি তাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা থাকবে। গণতন্ত্র থাকবে, নাকি দেশে স্বৈরতন্ত্র আসবে।
