দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয় :আকবর আলি খান

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৪৩
কোনো দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলি খান। তিনি আরো বলেছেন, দেশের মানুষ সেটা বিশ্বাসও করে না। এ প্রসঙ্গে তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য চারটি ফর্মুলা উপস্থাপন করেছেন। গতকাল শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (সিএফএসডি) আয়োজিত ‘শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর: অপশন ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আকবর আলি খান এ ফর্মুলা তুলে ধরেন। আকবর আলির প্রস্তাবিত চার ফর্মুলার প্রথমটিতে ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার মতো তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে চাইলে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের কাছে এ বিষয়ে নির্দেশনা বা পরামর্শ চাওয়ার পরামর্শ দেন। দ্বিতীয়টিতে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ থেকে ১০ জন সদস্য নেয়া যেতে পারে। এদের মধ্যে সরকারি দলের পিএমসহ ৫ জন সদস্য ও বিরোধী দলের প্রধানসহ ৫ জন সদস্য। সরকারি দলের ৫ জন সদস্যকে বিরোধী দল ও বিরোধী দলের ৫ জন সদস্যকে সরকারি দল নির্বাচন করবে। তৃতীয় ফর্মুলাতে আকবর আলি বলেন, দুই দলই ১০ জন করে মোট ২০ জন দল নিরপেক্ষ সদস্যের তালিকা দেবে। উভয় দলের ৫ জন করে মোট ১০ জন সদস্য নির্বাচন করবে সংসদ। এই ১০ জনের মধ্য থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান গঠন করা হবে। অপরদিকে, তার প্রস্তাবিত চতুর্থ ও শেষ ফর্মুলাটি হলো-যদি শীর্ষ দুই দলের মধ্যে সমঝোতা না হয়, তাহলে বিরোধী দল প্রস্তাব দেবে তারা কোন কোন উপায়ে নির্বাচন করতে চায়। এসব প্রস্তাবের উপর জনগণ তাদের পছন্দের পদ্ধতি নির্ধারণে গণভোট দেবে। তবে শেষ ফর্মুলার বেলায় বিদ্যমান আইনে কিছু সংশোধনী আনার প্রয়োজন পড়বে বলেও মত দেন এই সাবেক উপদেষ্টা। সেমিনারে মূল প্রবন্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান বলেন, ক্ষমতাসীন দলের অধীনে বাংলাদেশে যত নির্বাচন হয়েছে তার কোনটিই সুখকর হয়নি। ক্ষমতাসীনরা বারবার ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করেছেন। ক্ষমতাসীনদের অধীনে ১৯৭৩, ৭৯, ৮৬, ৮৮ ও ৯৬ (ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে গঠিত সংসদ স্বল্প মেয়াদের ছিল। তবে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ার পর ১৯৯১, ৯৬ (জুন), ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচন ছিল গ্রহণযোগ্য। এ জন্য বর্তমান প্রেক্ষাপটে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। যে কোন ফর্মুলায় হোক তত্ত্বাবধায়কের বিকল্প নেই। সিএফএসডি সভাপতি অ্যাম্বাসেডর এম আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরো অংশ নেন-রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার প্রমুখ।