শৈত্য প্রবাহ অব্যাহত

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৪৩
শৈত্যপ্রবাহ মৃদু হলেও সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য কমে যাওয়ায় সারা দেশে কনকনে ঠাণ্ডা অনুভূত হচ্ছে। রাজশাহী, রংপুর বিভাগসহ দেশের ১৬ জেলা ও সন্নিহিত অঞ্চলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। এই অবস্থা আরও অন্তত দুইদিন অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতজনিত রোগে ৯ জন মারা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ঘন কুয়াশায় নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। মাওয়ায় ফেরি চলাচল রাতে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগের অন্ত থাকছে না। আবহাওয়া অফিসসূত্র জানায়, দেশের মধ্যাঞ্চলে কুয়াশার দাপট কম থাকলেও উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে ঘন কুয়াশার কারণে দিনে তাপমাত্রাও তেমন বৃদ্ধির সুযোগ পাচ্ছে না। কোন কোন জায়গায় দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম থাকছে। এ কারণে মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যাচ্ছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সৃষ্ট উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় উত্তরের ঠাণ্ডা বায়ু দেশের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ছে। এ কারণেই শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিয়েছে। গতকাল রাঙ্গামাটি, চট্টগ্রাম, ফেনী, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, বরিশাল, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, ঈশ্বরদী, রাজশাহী, বগুড়া, রংপুর, সৈয়দপুর, দিনাজপুরের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে ছিল। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের তাপমাত্রা ছিল সবচেয়ে কম-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সূর্যের দেখা মেলায় ঢাকায় দিনের পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। তবে বিকাল নাগাদ আবার রাজধানীর আকাশ ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায়। কনকনে ঠাণ্ডা বাতাসে তীব্র শীত অনুভূত হতে থাকে। গতকাল ঢাকার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ১৯ দশমিক ৫ ও ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আমাদের চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা জানিয়েছেন, গত দুইদিনে এ উপজেলায় শীতে এক শিশুসহ ৪ জন মারা গেছেন। এরা হলেন পার্শ্বডাঙ্গা গ্রামের ওসমান (৭০), বনগ্রামের ইউপি সদস্য হুজুর আলীর পিতা শুকুর আলী (৮০), পার্শ্বডাঙ্গা গ্রামের ফখরুল ইসলামের ২৫ দিনের শিশুকন্যা রত্না ও হান্ডিয়ালের মোবারক আলী (৬৫)। আমাদের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় শীতজনিত রোগে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন হাসপাতাল পাড়ার মাছিমন (৮০), উলিপুরের নূরল আমিনের পুত্র ইব্রাহীম (৭ দিন) ও সদরের ভোগডাঙ্গার ফারুকের পুত্র (বাবু ৩ দিন)। জেলার হতদরিদ্র ৮ লাখ মানুষ কনকনে ঠাণ্ডা আর হিমেল হাওয়ায় কাহিল হয়ে পড়েছে। শীতের তীব্রতায় লোকজন ঘরের বাইরে বের হতে পারছে না। চলনবিল সংবাদদাতা জানিয়েছেন, তাড়াশ সদর গ্রামের স্বপন ঘোষ (৬০) দীর্ঘদিন হাঁপানিতে ভোগার পর গতকাল মারা গেছেন। গৌরীপুর গ্রামের মৃত আজগর সরদারের স্ত্রী (৮০) ঠাণ্ডাজনিত রোগে একদিন আগে মারা যান। ঘন কুয়াশায় মাওয়ায় ৬ ঘণ্টা ফেরি বন্ধ মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঘন কুয়াশার কারণে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌ-রুটে ফেরিসহ নৌ-যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। এর আগে রাত সাড়ে ৯টা থেকেই ফেরি চলাচল ব্যাহত হয়। দু’ পাড়ে নাইট কোচসহ পাঁচ শতাধিক যান এখনও পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে । মাঝ পদ্মায় শতাধিক যানবাহন ও অসংখ্য যাত্রী নিয়ে আটকা পড়ে ৬টি ফেরি। যশোর, রুহুল আমিন, ফরিদপুর, রাণীক্ষেত, থোবাল ও রায়পুরা এই ফেরি ৬টি মাঝ নদীতে। এছাড়া মাওয়া থেকে ছেড়ে আসা এমভি খাজা নামের লঞ্চ ২শ’ যাত্রী নিয়ে পদ্মায় আটকা পড়ার পর ভোরে সেটিও গন্তব্যে পৌঁছেছে। বিআইডব্লিউটিসি’র ব্যবস্থাপক সিরাজুল হক জানান, ঘন কুয়াশার কারণে রাত সাড়ে ৯টার পর থেকে নৌ-যান চলাচল ব্যাহত হয়। রাত সাড়ে ১০টা থেকে ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। কুয়াশার তীব্রতায় নদীর মধ্যে নৌ-যান চলাচলের নির্দেশক বাতি ও মার্কিং পয়েন্ট দেখতে না পারায় চালকরা ফেরি নদীর মধ্যে নোঙর করে রাখতে বাধ্য হয়েছে।