নাসির জামসেদের দারুণ এক শতকে ভারতের বিপক্ষে চলতি সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ছয় উইকেটে জিতেছে পাকিস্তান দল। চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত খেলাটিতে জয়ের ফলে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সফরকারীরা।
ভারত পাকিস্তান ম্যাচে শেষ কথা বলে কিছু নেই; এই ধ্রুব সত্যকে প্রমাণ করতেই কিনা ২২৮ রানের তাড়ায় প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরে যান ওপেনার মোহাম্মদ হাফিজ। টি-টোয়েন্টি অভিষেকের মতো প্রথম ওয়ানডে খেলতে নেমে ভুবনেশ্বর কুমার আবারো দেখালেন বোলার হিসেবে তিনি কতোটা পরিপক্ব। ১১ তম ওভারে এই ভুবনেশ্বরই ফিরিয়ে দেন আজহার আলীকে।
এই সময় পর্যন্তই ম্যাচে ছিল স্বাগতিক ভারত। এরপর খেলা চলে যায় পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে। অভিজ্ঞ ইউনিস খান ও ওপেনার নাসির জামসেদের ১১২ রানের জুটিতে জয় সহজ হয়ে যায় পাকিস্তানের। ৩১ তম ওভারে সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক ইউনিস খান ফিরে গেলেও ব্যাট হাতে দৃঢ়তা দেখিয়ে যান নাসির জামসেদ। শেষ পর্যন্ত ১০১ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন এই তারকা ওপেনার।
ভারতের হয়ে ভুবনেশ্বর কুমার দুটি এবং একটি করে উইকেট নেন ইশান্ত শর্মা ও অশোক দিন্দা।
এর আগে দিনের শুরুতে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানি পেসারদের তোপের মুখে পড়তে হয় ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনকে। ২৯ রানের মধ্যেই প্রথম পাঁচজন ব্যাটসম্যান আউট! দুস্বপ্নের মতো অমন শুরুর পরও ভারত যে ২২৭ রান তোলে তার পেছন অবদান অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির ১১৩ রানের অপরাজিত ইনিংসটি। অধিনায়কের পর সুরেশ রায়নার ৪৩ রান হলো দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এছাড়া ৩১ রানে অপরাজিত ছিলেন রবীচন্দ্রন অশ্বিন।
পাকিস্তান দলের হয়ে জুনায়েদ খান চারটি এবং মোহাম্মদ ইরফান ও মোহাম্মদ হাফিজ একটি করে উইকেট পান। ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান ধোনি। কলকাতায় আগামী তিন জানুয়ারি সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দুদল।
কালকের এ খেলায় ধোনি ১৬ রানে ও জামসেদ ৬৮ রানে ক্যাচ তুলেও রক্ষা পান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
টস: পাকিস্তান
ভারত: ৫০ ওভার ২২৭/৬ (মহেন্দ্র সিং ধোনি ১১৩ অপরাজিত, সুরেশ রায়না ৪৩, রবীচন্দ্রন অশ্বিন ৩১ অপরাজিত; জুনায়েদ খান ৪/৪৩)
পাকিস্তান: ৪৮ ওভার ১ বল ২২৮/৪ (নাসির জামসেদ ১০১ অপরাজিত, ইউনুস খান ৫৮, শোয়েব মালিক ৩৪ অপরাজিত; ভুবনেশ্বর কুমার ২/২৭)
ফল: পাকিস্তান ছয় উইকেটে জয়ী
ম্যাচ সেরা: মহেন্দ্র সিং ধোনি
সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজে পাকিস্তান ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে।
