ভারতের দিল্লিতে বাসে গণধর্ষণের শিকার মেডিক্যাল ছাত্রীর মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ গোটা ভারত। গত শুক্রবার তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে শুরু হয় বিক্ষোভ। রাজধানী দিল্লিতে রাতভর চলে বিক্ষোভ। রাত বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা। সেই বিক্ষোভ গতকালও অব্যাহত ছিল। তারা অপরাধীদের দ্রুত শাস্তি দাবি করে। গতকাল ভোরে ভারতের একটি বিশেষ বিমানে করে তার মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে দিল্লিতে আনা হয়। বিমানবন্দরে তরুণীর মরদেহ গ্রহণ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। এর ঘণ্টাখানেক পরই কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে সত্কার সম্পন্ন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঐ তরুণীর পরিবারের সদস্য ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সংবাদ মাধ্যমে তরুণী বা তার পরিবারের কোন ছবি অথবা সাক্ষাত্কার প্রচার না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। খবর বিবিসি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
১৬ ডিসেম্বর দিল্লিতে বাসে ধর্ষণ ও ব্যাপক নির্যাতনের পর তার বন্ধুসহ বাস থেকে ফেলে দেয়া হয়। ভারতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ২৬ ডিসেম্বর তরুণীকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। ডাক্তারদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে শুক্রবার রাতে পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেন।
বিক্ষোভকারীরা নারীর নিরাপত্তা বিধানে সরকারের আরও কার্যকর ভূমিকা নেবার দাবি জানান। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী শিলা দিক্ষিত বিক্ষোভকারীদের তোপের মুখে পড়েন। শুক্রবার তরুণীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে দিল্লি পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করে। অনেক রাস্তা বন্ধ করে দেয়। ১৪৪ ধারা জারি করা হয় কিছু এলাকায়। দিল্লিতে শুধু যন্তরমন্তর ও রামলীলা ময়দানে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়া হয়। গতকাল রবিবারও যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ হয়। বিজেপির ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় হালকা সংঘর্ষ হয়। একটি গ্রুপ অনশন গ্রহণ করে। দিল্লি মেট্রোর কয়েকটি স্টেশন গতকালও বন্ধ রাখা হয়।
ভারত জুড়ে বিক্ষোভের মধ্যেও আবার দিল্লিতে বাসে ধর্ষণ ও পশ্চিমবঙ্গে দুইজনকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
